নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): ইন্টারনেট দুনিয়ায় শিশুদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং সাইবার অপরাধ রুখতে এক বড়সড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশ। রাজধানী দিল্লির সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ একটি সমন্বিত অভিযান চালিয়ে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর ডিজিটাল সামগ্রী দেখা, আপলোড এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সাইবার টিপ-লাইন থেকে পাওয়া তথ্য এবং ডিজিটাল ইন্ডিকেটরগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ইন্টারনেটে শিশু যৌন হেনস্থার বেআইনি ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর প্রমাণ মেলে। এরপরই নির্দিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলা রুজু করে জেলাজুড়ে একযোগে অভিযান চালায় পুলিশ।
চিহ্নিত অপরাধীদের একযোগে ধরতে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের সমস্ত থানার পুলিশকে নিয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছিল। দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিপিসি) (ক্রাইম) রোহিত রাজবীর সিংয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই গোটা অপারেশনটি চালানো হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল ইন্টেলিজেন্স, ডিজিটাল স্ক্রুটিনি এবং ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিংয়ের ওপর ভিত্তি করে গত ৫ দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। এর ফলেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
দিল্লির আইপি এস্টেট, পাহাড়গঞ্জ, জামা মসজিদ, কমলা মার্কেট, প্যাটেল নগর এবং চাঁদনি মহল সহ বিভিন্ন থানায় পকসো আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মোট ১০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে এখনও পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তিরা সরাসরি এই আপত্তিকর শিশু যৌন নির্যাতনমূলক সামগ্রী আপলোড এবং তা নেটদুনিয়ায় ছড়ানোর সঙ্গে যুক্ত ছিল। চলমান তদন্ত এবং আইনি নিয়মের স্বার্থে আপাতত ধৃতদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অপরাধের জন্য ব্যবহৃত অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল হার্ডওয়্যার ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সমস্ত ডিভাইসগুলিকে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং সেগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে।
বাজেয়াপ্ত করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলির বিস্তারিত ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং অতিরিক্ত ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খতিয়ে দেখছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশ ক্রমাগত ইন্টারনেটের অন্যান্য গতিবিধির ওপর নজর রাখছে। বাকি ডেটাসেটগুলির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষ হলে এই ঘটনায় আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
























