নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (আইএএনএস): সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সংসদ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহযোগিতার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, সংসদে অকারণ বিঘ্ন সৃষ্টি করে কোনও রাজনৈতিক লাভ হয় না, বরং এতে জনসাধারণের অর্থের অপচয় হয়।
সর্বদলীয় বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রিজিজু বলেন, “আগামীকাল থেকে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আজ সরকার ফ্লোর লিডারদের নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে। আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, যাতে অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। সংসদ সকলের। আশা করি, সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষই সরকারের কাজকর্ম এবং বিভিন্ন বিল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেবে।”
তিনি বলেন, “সংসদ যত ভালোভাবে চলবে, দেশের তত বেশি উপকার হবে। আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রে বাস করি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদে নিজেদের বিষয় তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। সেখানে জোরালো বিতর্ক হওয়া উচিত। যে কোনও দল বা সাংসদ সংসদে নিজের মতামত প্রকাশ করতে স্বাধীন।”
গত কয়েকটি অধিবেশনে বিরোধীদের ‘অতিরিক্ত বিঘ্ন সৃষ্টির’ প্রসঙ্গ তুলে রিজিজু বলেন, “এই ধরনের বিঘ্নে কারও কোনও লাভ হয় না, সাধারণ মানুষও তা পছন্দ করেন না। মানুষ চান সংসদ সুষ্ঠুভাবে চলুক, আমরাও সেটাই চাই। ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে যে বিঘ্ন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক লাভ হয় না। তাই আমি আবারও সব দলের নেতাদের সংসদ নির্বিঘ্নে পরিচালনায় সহযোগিতা করার আবেদন জানাচ্ছি। আমরা বিরোধীদের কথা শুনব, বিরোধীদেরও আমাদের কথা শোনা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “সংসদে বিঘ্ন ঘটালে সকলের সময় নষ্ট হয় এবং জনসাধারণের অর্থের অপচয় হয়। এই বর্ষাকালীন অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল এবং সরকারি কাজ রয়েছে। সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। মতভেদ থাকলেও তা বিঘ্ন সৃষ্টি করে নয়, বিতর্কের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করব এবং বিরোধীদের কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা আশা করছি।”
এদিকে, সংসদ ভবনের অ্যানেক্স ভবনের প্রধান কমিটি কক্ষে সরকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চাওয়া হবে, যাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত করা যায়।
উল্লেখ্য, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন ২০ জুলাই শুরু হয়ে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। চার সপ্তাহব্যাপী এই অধিবেশনে মোট ১৯টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



















