কলহাপুর, ২০ জুন (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার মহারাষ্ট্রের কলহাপুরে ১,৪৪৫.৯৭ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী শ্রী অম্বাবাই (মহালক্ষ্মী) মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করেন।
মন্দির সংরক্ষণ, ঐতিহ্য রক্ষা, ভক্তদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক পর্যটনের বিকাশকে লক্ষ্য করে এই বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আগে অমিত শাহ ও তাঁর স্ত্রী ঐতিহাসিক মহালক্ষ্মী মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনা করেন। পরে তাঁরা মন্দির প্রাঙ্গণের ‘রামাচা পার’ এলাকায় নারকেল ভেঙে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন কাজের সূচনা করেন এবং স্মারক ফলক উন্মোচন করেন।
প্রকল্পের আওতায় নতুন প্রদক্ষিণ পথ নির্মাণ, পার্শ্ববর্তী দেবদেবীর মন্দিরগুলির সংরক্ষণ এবং মূল মন্দিরের ঐতিহাসিক কাঠামো রক্ষার কাজ করা হবে।
শ্রী করভীর নিবাসিনী মহালক্ষ্মী মন্দির ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিত। এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এই হেমাডপন্থী স্থাপত্যশৈলীর মন্দিরে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম করেন।
মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভা ২০২৫ সালের ৬ মে এই প্রকল্পের জন্য ১,৪৪৫.৯৭ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করে। প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপের জন্য ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট পরিকল্পনা বিভাগ ১৪৩.৯০ কোটি টাকা অনুমোদন করে, যা মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দেশিকা মেনে কাঠামোগত সংরক্ষণে ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে ৩২.৯৬ কোটি টাকার কাঠামোগত সংস্কার কাজ এবং ২৩.০৫ কোটি টাকার আধুনিক বিদ্যুতায়ন, সিসিটিভি স্থাপন ও আলোকসজ্জা প্রকল্পের কাজ চলছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মন্দির সংলগ্ন ৪১টি ছোট মন্দির পুনরুদ্ধার করা হবে এবং শহরের ঐতিহ্যবাহী ‘নগর প্রদক্ষিণ মার্গ’-এর সৌন্দর্যায়ন করা হবে। এ জন্য মোট ২৮,০৫৮ বর্গমিটার জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯,৪৮৯ বর্গমিটার ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে মন্দির চত্বরে অত্যাধুনিক দর্শনার্থী সুবিধা গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে থাকবে বৃহৎ দর্শন মণ্ডপ (মেগা কিউ কমপ্লেক্স), অন্নছত্র, বহুমুখী হল, অ্যাম্ফিথিয়েটার, তথ্যকেন্দ্র, বৈদিক বিদ্যালয়, আধুনিক ইউটিলিটি ব্লক, জুতা রাখার ব্যবস্থা, পরিকল্পিত বাজার এলাকা এবং বিস্তৃত পার্কিং সুবিধা।
এছাড়াও প্রশাসনিক কার্যালয়, পুলিশ স্টেশন, নিরাপত্তা চৌকি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রও নির্মাণ করা হবে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।



















