চেন্নাই, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): তামিলনাড়ুর বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্টালিনকে মঙ্গলবার একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর স্টেশন বেলে মুক্তি দেয় পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁকে ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশের পরই তাঁর মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেয়, মঙ্গলবারই জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।
তাঞ্জাভুর জেলার সেঙ্গিপট্টি থানায় পুলিশ সুপার সুন্দরাবতনমের উপস্থিতিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে উদয়নিধি স্টালিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাঁকে স্টেশন বেলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি প্রায় আট ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।
প্রথমে পুলিশ তাঁকে তাঞ্জাভুর দক্ষিণ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা করেছিল। তবে থানার বাইরে বিপুল সংখ্যক ডিএমকে কর্মী-সমর্থক জড়ো হওয়ায় তদন্তের স্থান পরিবর্তন করে সেঙ্গিপট্টি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রথমদিকে সেঙ্গিপট্টি থানায় জিজ্ঞাসাবাদের বিরোধিতা করেন উদয়নিধি স্টালিন। এমনকি তিনি পুলিশের গাড়ি থেকে নামতেও অস্বীকার করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি থানায় প্রবেশ করেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেন।
মুক্তি পাওয়ার পর থানার বাইরে উপস্থিত ডিএমকে কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। একটি খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন এবং তাঁদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আগে উদয়নিধি স্টালিনের আইনজীবী মাদ্রাজ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন।
মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার আদালতকে জানায়, উদয়নিধি স্টালিনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে স্টেশন বেল দেওয়া হবে বলেও আদালতকে জানানো হয়।
সরকারের এই বক্তব্য নথিভুক্ত করে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, মঙ্গলবারই জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ পরদিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা যাবে না।
এদিকে, ডিএমকে সভাপতি ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শাসক টিভিকে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বুধবার থেকে শুরু হওয়া রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলনেতাকে অংশ নিতে বাধা দিতেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
উদয়নিধি স্টালিনকে গ্রেফতারের পর ডিএমকে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁকে চেন্নাই থেকে তাঞ্জাভুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন থানার বাইরে এবং একাধিক স্থানে দলীয় সমর্থকেরা প্রতিবাদে সামিল হন।


















