নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) অনুষ্ঠিত তথাকথিত স্থানীয় নির্বাচনকে ‘সম্পূর্ণ প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়ে মঙ্গলবার পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, পিওকে-তে জনঅসন্তোষের জবাবে পাকিস্তান গুলি, ভয় দেখানো, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া এবং দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। এই অভিযানে অন্তত ৯০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেছে ভারত।
নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে এই তথাকথিত স্থানীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ প্রহসন। সেখানে প্রকৃত ঘটনা হল জনবিক্ষোভ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। এ ধরনের ফাঁপা নির্বাচন বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে পারে না। চলতি বছরের জুন মাস থেকে দমন-পীড়নের জেরে অন্তত ৯০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের প্রশাসন জনঅসন্তোষের জবাব দিয়েছে গুলি, ব্ল্যাকআউট, ভয় দেখানো এবং দমন-পীড়নের মাধ্যমে। এখন সেই বাস্তবতা ঢাকতে একটি অর্থহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। পিওকে-তে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানকে জবাবদিহি করতে হবে এবং মানবাধিকার নিয়ে তাদের ভণ্ডামি বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হওয়া উচিত।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিওকে-র নির্বাচনের প্রথম পর্বে ব্যাপক হিংসা, ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় ভোটগ্রহণ বিতর্কের মুখে পড়েছে। জোটের শরিক দলগুলিও একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেকেজেএএসি)-র নেতৃত্বে গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে গত কয়েক সপ্তাহে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার জেকেজেএএসি অভিযোগ করেছে, বাঘ জেলায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি বাহিনী গুলি চালিয়েছে এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি, মুজাফ্ফরাবাদ জেলার মাকরি এলাকায় সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
জেকেজেএএসি রাষ্ট্রপুঞ্জ, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (ওএইচসিএইচআর), আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে ঘটনাগুলির স্বাধীন তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছে।



















