নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্ক নিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশারই প্রতিফলন।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের মন্তব্য সম্পর্কে বলতে চাই, এই ধরনের বক্তব্য ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ঘিরে পাকিস্তানের নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশাই প্রকাশ করে।”
সম্প্রতি পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের (ডিজি আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে আফগান তালিবান সরকারকে “অমুসলিমদের” থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
ভারতের বক্তব্য, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ না করায় ইসলামাবাদ হতাশ হয়ে সীমান্ত এলাকায় হামলা ও বিমান হামলার পথ বেছে নিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। একইসঙ্গে পাকিস্তান প্রতিদিন হাজার হাজার আফগান শরণার্থীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে নিজ দেশ থেকে ফেরত পাঠাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
গত ১৮ মার্চ কাবুলে রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন দেশের মিশনপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি অভিযোগ করেছিলেন, হাসপাতালের ওপর হামলা প্রমাণ করে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব যুদ্ধের ক্ষেত্রে মানবিক বা ইসলামী নীতির কোনও তোয়াক্কা করে না।
তিনি আরও বলেন, রমজানের শেষ দিনগুলো এবং ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে এই হামলা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মানবিক ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞাকেই তুলে ধরেছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আফগানিস্তান বারবার ভারতের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং আফগান জনগণের পাশে থাকার জন্য ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
গত অক্টোবর মুত্তাকির ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ঘোষণা করেছিল, আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের স্বার্থে স্বাস্থ্য, জনপরিকাঠামো এবং দক্ষতা উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।
এদিকে, বিদেশ মন্ত্রক আবারও পাকিস্তানকে সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা সব দেশকেই সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ এবং যারা তা মদত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। পাকিস্তানকেও নিজেদের মাটি থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অপারেশন সিঁদুরের সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের উপযুক্ত জবাব গোটা বিশ্ব দেখেছে। আমাদের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট—সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হতেই হবে। দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন, ভারত তাই করবে।”


















