News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • ইরান চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ভারতীয়-মার্কিন কংগ্রেসম্যানের, ‘মূল নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান হয়নি’
Image

ইরান চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ভারতীয়-মার্কিন কংগ্রেসম্যানের, ‘মূল নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান হয়নি’

ওয়াশিংটন, ১৭ জুন (আইএএনএস): ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রামান্যম। তাঁর মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগগুলির কোনও কার্যকর সমাধান এতে হয়নি।

আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাট দলের এই আইনপ্রণেতা বলেন, “এই ইরান চুক্তির ফলে অন্তত বোমাবর্ষণ কমবে, যা অবশ্যই ইতিবাচক দিক।”

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনাপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, “এই প্রশাসনের আলোচনার দক্ষতার ওপর আমার খুব বেশি আস্থা নেই। আমার মনে হয়, এই চুক্তি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির তুলনায় একধাপ পিছিয়ে যাওয়া, যেখানে স্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য ফলাফল ছিল।”

সুব্রহ্মণ্যমের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানের অবস্থানকে দুর্বল না করে বরং আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি বলেন, “এই যুদ্ধের ফলে ইরান অঞ্চল ও বিশ্বের উপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে এবং কিছু মাত্রায় কৌশলগত সুবিধাও অর্জন করেছে।”

ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে।

তবে সুব্রহ্মণ্যম মনে করেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে না। তাঁর কথায়, “অনেক জাহাজ ও বাণিজ্যিক সংস্থার এখনও ওই পথ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।”

তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি তার মূল লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। “ইরানের সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের বিষয়টি এই চুক্তিতে স্পর্শই করা হয়নি। একইভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এর কোনও প্রভাব নেই, অথচ সেটাই ছিল এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ।”

মার্কিন কূটনীতির ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সুব্রহ্মণ্যম বলেন, “আমি এটাকে মার্কিন শক্তির অবক্ষয় বলছি না, কিন্তু এই যুদ্ধ প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সামরিক হুমকি কার্যকর করার সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রশাসনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকার মর্যাদা ও কূটনৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।”

সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতীয়-মার্কিন এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষমূলক আচরণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “ভারতীয়-মার্কিন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষসহ সব ধরনের ঘৃণার প্রকাশের বিরোধিতা করতে হবে।”

তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। “আমার নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতেও মানুষ মন্তব্য করে বলে, আমি যেন যেখানে থেকে এসেছি সেখানে ফিরে যাই। কেউ কেউ বলে আমি প্রকৃত আমেরিকান নই।”

সুব্রহ্মণ্যমের মতে, জননেতা ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে সরব হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা নীরব থাকতে পারি না। কোথাও ঘৃণার প্রকাশ বা পতাকা পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটলে তার নিন্দা করতেই হবে।”

রাজনৈতিক বক্তব্য কি সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “অতি-ডানপন্থী এবং অতি-বামপন্থী— উভয় দিক থেকেই উসকানিমূলক বক্তব্য আসছে, আর তার কোনওটিই সহায়ক নয়। তাই যেখানেই এমন বক্তব্য দেখা যাবে, তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।”

Releated Posts

জাতিসংঘ সনদের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, একে ‘আশার প্রতীক’ বলে উল্লেখ

জাতিসংঘ, ১৭ জুন (আইএএনএস): জাতিসংঘ সনদ ভারতের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে ‘আশা’র প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রসংঘে…

ByByNews Desk Jun 17, 2026

ট্রাম্প-মোদি বৈঠককে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

ওয়াশিংটন, ১৭ জুন (আইএএনএস): ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির…

ByByNews Desk Jun 17, 2026

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রচেষ্টাকে স্বাগত মোদির, বললেন ‘সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখা জরুরি’

এভিয়াঁ (ফ্রান্স), ১৭ জুন (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

ByByNews Desk Jun 17, 2026

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর, ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার মোদি-তাকাইচির

নয়াদিল্লি, ১৬ জুন (আইএএনএস): বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার…

ByByNews Desk Jun 17, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top