ঢাকা, ১ আগস্ট (আইএএনএস): অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘসূত্রিতার বিচারপ্রক্রিয়া এবং পরিকাঠামোগত ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলি (চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার) গুরুতর মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি আবাসিককে রাখতে হওয়ায় শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রেসেঞ্জা ইন্টারন্যাশনাল প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র গরম, গাদাগাদি করে থাকার পরিস্থিতি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের অমানবিক কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। পাশাপাশি শিশু-সংক্রান্ত আইনের ফাঁকফোকর এবং বয়স নির্ধারণের জটিলতার কারণে এসব কেন্দ্রে প্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের উপস্থিতিও বাড়ছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা এবং মানসিক বিকাশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশের আইন কমিশনের প্রকাশিত ‘শিশু আইন, ২০১৩: সন্দেহ, অসঙ্গতি এবং বিভ্রান্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, গাজীপুর ও যশোরে অবস্থিত ছেলেদের দুটি প্রধান শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অনুমোদিত ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি আবাসিক রাখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সরকারি ধারণক্ষমতা ৩০০ হলেও পরিকাঠামোগতভাবে সেখানে ২০০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৫৭৮ জন শিশু ও তরুণ রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আবাসিকের সংখ্যা প্রায় ৭৮০-এ পৌঁছেছে। প্রাক্তন আবাসিকদের দাবি, ১০ জনের জন্য নির্ধারিত কক্ষে নিয়মিত ১৫ থেকে ২০ জনকে রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩০০ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ২৯৫ জন রয়েছে। তবে সেখানে ৬৯ জন আবাসিকের সরকারি নথিতে বয়সের কোনও তথ্যই নেই।
বাংলাদেশের একমাত্র মেয়েদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র গাজীপুরে ১৫০ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৯২ জন রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৬ জন আইনের সংস্পর্শে আসা বা আইনি মামলায় জড়িত শিশু।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গরমের সময় এমন গাদাগাদি পরিবেশে বসবাস শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে এবং তাদের সামাজিক ও মানসিক পুনর্বাসনের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে।
আইন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলিতে অন্তত ৭০ জন আবাসিকের বয়স ইতিমধ্যেই ১৮ বছরের বেশি। এর মধ্যে গাজীপুরের ছেলেদের কেন্দ্রে ৫৩ জন, যশোরে ১৬ জন এবং গাজীপুরের মেয়েদের কেন্দ্রে একজন রয়েছেন। এছাড়া গাজীপুরের ছেলেদের কেন্দ্রে ৯১ জন আবাসিকের বয়সের কোনও নথিভুক্ত তথ্য নেই এবং ১৯ থেকে ২০ বছর বয়সি তরুণদেরও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে একই কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু পরিকাঠামো সম্প্রসারণই নয়, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করাও অত্যন্ত জরুরি।


















