News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • ট্রাম্প-মোদি বৈঠককে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
Image

ট্রাম্প-মোদি বৈঠককে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

ওয়াশিংটন, ১৭ জুন (আইএএনএস): ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠককে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের নতুন সূচনার সুযোগ হিসেবে দেখছেন ভারতীয়-মার্কিন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার হলে দুই দেশই উপকৃত হবে।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য সুহাস সুব্রহ্মণ্যম বলেন, ট্রাম্পের উচিত আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া। তাঁর অভিযোগ, শুল্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের প্রতি কিছু মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করেছে।

আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “আমার প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোবেন। ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং অংশীদার।”

সুব্রহ্মণ্যমের মতে, সম্পর্ক উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকা উচিত বাণিজ্য। তিনি বলেন, অতীতে শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভার্জিনিয়ার বহু ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পণ্যের দামও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে তা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলাতেও সহায়ক হবে।”

ভার্জিনিয়া হাউস অব ডেলিগেটসের সদস্য জস জিৎ সিংও একই সুরে বলেন, একতরফা শুল্ক আরোপের নীতি আমেরিকার মিত্র দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করে এবং দেশীয় বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়।

আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “আমাদের এমন যুক্তিসঙ্গত অর্থনৈতিক নীতি প্রয়োজন, যা বাণিজ্যিক অংশীদারদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।”

সিংয়ের মতে, সংঘাত নয়, সহযোগিতাই হওয়া উচিত নীতির ভিত্তি। তিনি বলেন, “অকারণ বৈরিতা কারও উপকারে আসে না। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে আমাদের অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, ভারতীয়-মার্কিন সম্প্রদায়ের কাছে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, “ভারতীয়-মার্কিনরা ভার্জিনিয়ার অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। আমার নির্বাচনী এলাকার প্রায় ৪০ শতাংশ বাসিন্দাই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত।”

এদিকে, হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর গ্লোবাল বিজনেস স্টাডিজের পরিচালক ও অধ্যাপক ড. নরেন্দ্র কে. রুস্তাগি দীর্ঘমেয়াদে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আইএএনএস-কে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ভারত ও আমেরিকা স্বাভাবিকভাবেই মিত্র। তাই বর্তমান মতপার্থক্য সত্ত্বেও ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।”

রুস্তাগির মতে, ভারতের বিশাল শিক্ষিত মানবসম্পদ এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। ফলে উভয় দেশের স্বার্থেই পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “দুই দেশেরই একে অপরকে প্রয়োজন। সেই কারণেই ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বিকশিত ও শক্তিশালী হবে।”

Releated Posts

জাতিসংঘ সনদের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, একে ‘আশার প্রতীক’ বলে উল্লেখ

জাতিসংঘ, ১৭ জুন (আইএএনএস): জাতিসংঘ সনদ ভারতের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে ‘আশা’র প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রসংঘে…

ByByNews Desk Jun 17, 2026

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রচেষ্টাকে স্বাগত মোদির, বললেন ‘সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখা জরুরি’

এভিয়াঁ (ফ্রান্স), ১৭ জুন (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

ByByNews Desk Jun 17, 2026

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর, ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার মোদি-তাকাইচির

নয়াদিল্লি, ১৬ জুন (আইএএনএস): বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার…

ByByNews Desk Jun 17, 2026

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট রুটোর সঙ্গে বৈঠকে মোদি, গ্লোবাল সাউথের স্বার্থে অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

নয়াদিল্লি, ১৬ জুন (আইএএনএস): গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষাকে ভিত্তি করে ভারত ও কেনিয়ার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার…

ByByNews Desk Jun 17, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top