কাঠমান্ডু, ১৭ জুন (আইএএনএস): উদ্বোধনের সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত চীন-অর্থায়িত পোখরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত দৈনিক আন্তর্জাতিক উড়ান শুরু হতে চলেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই ঘোষণা করেছে যে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দুবাই ও পোখরার মধ্যে দৈনিক সরাসরি উড়ান চালু করা হবে। এর মাধ্যমে পোখরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো কোনও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা নিয়মিত দৈনিক পরিষেবা পরিচালনা করবে।
বিমানবন্দরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হলেও এতদিন নিয়মিত আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে নেপাল-চীন যৌথ উদ্যোগের সংস্থা হিমালয়া এয়ারলাইন্স ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে পোখরা-লাসা রুটে সাপ্তাহিক সরাসরি উড়ান চালু করেছিল। তবে চলতি বছরের মার্চেই সেই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিমানবন্দরটি আবারও আন্তর্জাতিক উড়ানহীন হয়ে পড়ে।
এদিকে, বহু কোটি ডলারের এই প্রকল্প দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। নেপালের দুর্নীতি দমন সংস্থা কমিশন ফর ইনভেস্টিগেশন অব অ্যাবিউজ অব অথরিটি (সিআইএএ) বিমানবন্দর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে ছয়জন প্রাক্তন মন্ত্রী (যাঁদের মধ্যে একজন মৃত) এবং বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
প্রকল্পটি নির্মাণে চায়না এক্সিম ব্যাংক থেকে ২১ কোটি ৫৯ লক্ষ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের ঋণ নেওয়া হয়েছিল। নির্মাণের দায়িত্বে ছিল চায়না সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, যাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের ঘোষণাকে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএন)-এর জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, চীনা ঋণে নির্মিত এই বিমানবন্দরের ঋণ পরিশোধের দায়িত্বও সংস্থাটির ওপর বর্তায়।
ফ্লাইদুবাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ থেকে পোখরার উদ্দেশে প্রতিদিন উড়ান পরিচালিত হবে।
সিএএএন-এর তথ্য আধিকারিক জ্ঞানেন্দ্র ভুল আইএএনএস-কে জানান, প্রাথমিকভাবে এক মাসের জন্য দৈনিক উড়ানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত পরিষেবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রুটটি বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগতভাবে লাভজনক প্রমাণিত হলে ফ্লাইদুবাই পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে অন্য কোনও আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা পোখরা বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত পরিষেবা চালুর আবেদন করেনি। তবে ফ্লাইদুবাইয়ের সাফল্য অন্য বিমান সংস্থাগুলিকেও উৎসাহিত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলিকে আকৃষ্ট করতে গত তিন বছর ধরে অবতরণ, পার্কিং, নেভিগেশন, নিরাপত্তা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-সহ বিভিন্ন বিমানবন্দর ফি মকুব করা হয়েছে। তবুও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি।
সরকারি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রানওয়ের দৈর্ঘ্য, তাপমাত্রা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিমানবন্দরটিতে লোড-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। এতে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক পরিষেবা চালু না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিয়মিত আন্তর্জাতিক উড়ানের অভাবে বহু পর্যবেক্ষক পোখরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ‘হোয়াইট এলিফ্যান্ট’ বা অলাভজনক বৃহৎ প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেছেন।
একইভাবে, নেপালের ভৈরহাওয়ায় অবস্থিত গৌতম বুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও আন্তর্জাতিক পরিষেবা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অতীতে কাতার এয়ারওয়েজ, এয়ারএশিয়া, জাজিরা এয়ারওয়েজ এবং নেপাল এয়ারলাইন্স সেখানে উড়ান চালালেও বর্তমানে কোনও আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা চালু নেই বলে সিএএএন সূত্রে জানা গেছে।
________



















