ওয়াশিংটন, ১৬ জুন (আইএএনএস): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে বলে ঘোষণা করার এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশের দাবি তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং চুক্তির বিস্তারিত না দেখে কংগ্রেস তার মূল্যায়ন করতে পারে না।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার এই দাবির নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরেও আইনপ্রণেতা এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছেন।
সিনেটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুমার বলেন, “আমাদের বহুবার বলা হয়েছে যে এই যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু প্রতিবারই হতাশ হতে হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মূল বিষয় লুকিয়ে থাকে খুঁটিনাটির মধ্যে, অথচ ট্রাম্প এখনও তাঁর কথিত সমঝোতার লিখিত পাঠ প্রকাশ করেননি।”
তিনি অবিলম্বে কংগ্রেসকে ব্রিফ করার দাবি জানিয়ে বলেন, “আমেরিকার জনগণের জানার অধিকার রয়েছে চুক্তিতে ঠিক কী রয়েছে। ট্রাম্পকে অবিলম্বে কংগ্রেস ও জনগণের সামনে চুক্তির সমস্ত বিবরণ তুলে ধরতে হবে এবং এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।”
শুমার আরও প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন সেনারা কি এখনও ঝুঁকির মধ্যে থাকবে, প্রশাসন কীভাবে যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ করতে চায় এবং প্রস্তাবিত ৬০ দিনের আলোচনার রূপরেখা কী।
তাঁর দাবি, এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্র বরং দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করার আগে যে অবস্থায় ইরান ছিল, এখন তার চেয়ে বেশি কট্টরপন্থী হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী-এর উপর ইরানের প্রভাবও বেড়েছে। পেট্রোলের দাম এখনও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।”
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন আলোচনায় অগ্রগতির খবরকে স্বাগত জানালেও সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ স্বাগত, তবে এতে নিহতদের জীবন ফিরে আসবে না এবং জ্বালানির দামও আগের অবস্থায় ফিরবে না।”
কেইনের মতে, “কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ যা নিশ্চিত করতে পারে যে ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না।” একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সম্ভাব্য কোনও চুক্তিতে আর্থিক ছাড় বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জিন শাহিন-ও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কূটনৈতিক অগ্রগতি অবশ্যই স্বাগত এবং অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এই সংঘাতের মূল লক্ষ্যগুলি অর্জিত হয়নি।”
শাহিনের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান কিংবা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি কমানোর মতো লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, “চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে কংগ্রেসকে অবিলম্বে অবহিত করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী যে কোনও পারমাণবিক চুক্তি কংগ্রেসের পর্যালোচনার আওতায় আসবে।”
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য বেটি ম্যাককলাম ট্রাম্প ঘোষিত কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, এটি কেবল বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির একটি অনিশ্চিত ৬০ দিনের সম্প্রসারণ মাত্র।
তাঁর বক্তব্য, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, ইরানের জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির কোনও সমাধান এই কাঠামোয় নেই। ফলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা এখনও অধরাই থেকে যাবে।”
অন্যদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তির খবরের পর আমরা মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৃত ও স্থায়ী শান্তির জন্য প্রার্থনা করছি। আমরা আমাদের সেনাদের পাশে আছি, তাঁদের সাহস ও ত্যাগকে সম্মান জানাই এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরার কামনা করি।”



















