ইম্ফল, ১ আগস্ট (আইএএনএস): দীর্ঘদিনের জাতিগত অশান্তি ও সংকট সত্ত্বেও মণিপুরের ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকরা শিক্ষার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারে অটল থেকেছেন এবং উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচন্দ সিং।
শুক্রবার ইম্ফলের এমএসএফডিএস-এর প্যালেস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রণোদনা’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, অভূতপূর্ব সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাকে ব্যাহত হতে দেননি, বরং নিজেদের সাফল্যের লক্ষ্যে এগিয়ে গিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মণিপুরের সমাজে নারীরা বরাবরই সাহস, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ইমা কাইথেল (মহিলাদের পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী বাজার) এবং রানি গাইদিনলিউ-এর মতো ব্যক্তিত্ব সেই ঐতিহ্যেরই প্রতীক।
তিনি অলিম্পিক পদকজয়ী সাইখোম মীরাবাই চানুর সাম্প্রতিক কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের কথাও উল্লেখ করে বলেন, তাঁর এই সাফল্য রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।
অনুষ্ঠানে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিষ্ঠা এবং অবদানেরও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার প্রকল্প সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে এবং মেধাবী পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করছে।
সরকারি স্কুলগুলির উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ‘স্কুল ফাগাথানসি মিশন’ চালু করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রকল্পের আওতায় কম ছাত্রসংখ্যার স্কুলগুলিকে নিকটবর্তী সরকারি স্কুলের সঙ্গে একীভূত করা হয় ‘ওয়ান স্কুল ডেভেলপমেন্ট পার কনস্টিটুয়েন্সি’ উদ্যোগের মাধ্যমে।
নিজের সিংজামেই বিধানসভা কেন্দ্রের চিংগামাখা হাই স্কুলের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময় সেখানে মাত্র ১৪ জন ছাত্র ছিল, যা বর্তমানে বেড়ে ২৫০-রও বেশি হয়েছে। এ বছর ওই স্কুলের ১৫ জন ছাত্রছাত্রী এইচএসএলসি পরীক্ষায় অংশ নেয়, যার মধ্যে আটজন প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, টি.জি. হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ১৭ জন পুরস্কারপ্রাপকের মধ্যে ১১ জন রাজ্যস্তরের স্থানাধিকারী। তিনি একে মণিপুরের মেয়েদের প্রতিভা, অধ্যবসায় এবং নারী ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা মানবসমাজের মেরুদণ্ড এবং ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমস্যা ও দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে রাজ্য সরকার সর্বদা প্রস্তুত। একইসঙ্গে তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে বন্ধ, অবরোধ বা জনজীবন ব্যাহতকারী কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ছাত্রছাত্রীদের এবং সাধারণ মানুষের।
এদিন মোট ৬৫ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে ১৪ জন রাজ্যস্তরের এবং ৫১ জন জেলা স্তরের কৃতী পড়ুয়া। পাঁচটি জেলা—উখরুল, চুরাচাঁদপুর, কাংপোকপি, জিরিবাম এবং তেংনৌপালেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে একযোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
স্কুলগুলির মধ্যে টি.জি. হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল সর্বাধিক ১৭টি পুরস্কার অর্জন করেছে। এরপর রয়েছে সি.সি. হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল (৮টি) এবং কাকচিং হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল (৫টি)। পাহাড়ি জেলার স্কুলগুলি মোট ২৪টি এবং উপত্যকা অঞ্চলের স্কুলগুলি ৪১টি পুরস্কার পেয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যস্তরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীরা যথাক্রমে ৫ লক্ষ, ৪ লক্ষ ও ৩ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। চতুর্থ স্থান থেকে পরবর্তী স্থানাধিকারীদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়। জেলা স্তরে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারীদের যথাক্রমে ৫০ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।



















