কলকাতা, ১৬ জুন (আইএএনএস): উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে মঙ্গলবার ভোরে রেলের ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রেলের জমি ও স্টেশন চত্বরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও স্থাপনা সরানোর উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের জমিতে নির্মিত দোকান ও অন্যান্য কাঠামোর মালিকদের চলতি মাসের শুরুতেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের ১৫ জুনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেকেই জায়গা না ছাড়ায় মঙ্গলবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ।
যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মঙ্গলবার রাত প্রায় ১টা থেকেই স্টেশন চত্বরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও সরকারি রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মাইকিং করে বাসিন্দা ও দোকানদারদের উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে জানানো হয়।
উচ্ছেদ কাজ শুরু হতেই বহু হকার ও ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তবে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং স্বেচ্ছায় দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল। সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই অভিযান শুরু করা হয়েছে।
অস্থায়ী দোকানের পাশাপাশি রেলের জমিতে গড়ে ওঠা একাধিক স্থায়ী কাঠামোও ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দখলকৃত জমিতে থাকা সিপিআই(এম)-এর একটি দলীয় কার্যালয়ও এই অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
এর প্রতিবাদে বামপন্থী কর্মী-সমর্থকরা স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বললে কিছুক্ষণের জন্য বাগ্বিতণ্ডার পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হাবড়া উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বরের চারপাশে বেআইনি দখল ও অনুমোদনহীন দোকানপাট বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল, বিশেষ করে অফিস সময়ে। বহু নিত্যযাত্রী দীর্ঘদিন ধরেই উচ্ছেদ অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে স্টেশন এলাকা ও রেলের জমি দখলমুক্ত করার বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবেই হাবড়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন, শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন, যাদবপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং দমদম রেলওয়ে স্টেশন-এও একই ধরনের অভিযান হয়েছে।
তবে কিছু দোকানদার উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করেই জীবিকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন হকার সংগঠনও ব্যবসা ও আয়ের সুরক্ষার দাবিতে একাধিক জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে।
























