আগরতলা, ১৫ মে : রাজ্যে মাদকের ক্রমবর্ধমান বিস্তারের মধ্যেই ধলাই জেলার ছৈলেংটা মহকুমা থেকে মাদক সেবনের অতিরিক্ত মাত্রার কারণে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সোমবার সকালে ছাইলেংটা মহকুমা সদর এলাকার ফিশারিপাড়া সংলগ্ন সিনিয়র বেসিক স্কুলের প্রাঙ্গণে এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। পরে স্থানীয়রা কাছে গিয়ে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করেন। তিনি হলেন অজয় চাকমা (২৭), ছাইলেংটা এলাকার দারোগাপাড়ার বাসিন্দা লক্ষ্মীকুমার চাকমার পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় শেষবারের মতো অজয় চাকমাকে জীবিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। সোমবার সকালে তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ছাইলেংটা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ‘ব্রট ডেড’ ঘোষণা করেন।
পরে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চিকিৎসকদের ধারণা অজয় চাকমার মৃত্যু মাদক সেবনের অতিরিক্ত মাত্রার ফলেই হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেও মাদক সেবনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অজয় দীর্ঘদিন ধরেই মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত সহৃদয় ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এলাকার যে কোনও বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন তিনি। সেই কারণেই তার অকাল মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, গোটা ছাইলেংটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত অজয় চাকমা রেখে গেছেন চার বছরের এক পুত্র সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে রাজ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে মাদকের সহজলভ্যতা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার সংখ্যা বাড়তে পারে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।



















