আগরতলা, ১৫ জুন: সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের জেরে নির্যাতিতা বৃদ্ধা রানু বালা সরকারের বাড়িতে পৌঁছালেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন। সোমবার বিকেলে চেয়ারপারসন ঝর্না দেববর্মা-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আমতলী থানার অন্তর্গত সেকেরকোট নেতাজী সুভাষ কলোনি সংলগ্ন এলাকায় রানু বালা সরকারের বাড়িতে যান এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, শনিবার বৃদ্ধা রানু বালা সরকার তাঁর ছোট ছেলে বাচ্চু সরকারের হাতে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন তিনি সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য মহিলা কমিশন।
সোমবার প্রতিনিধি দল দীর্ঘ সময় ধরে রানু বালা সরকার ও তাঁর ছেলে বাচ্চু সরকারের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে। এসময় উভয় পক্ষই নিজেদের বক্তব্য ও অভিযোগ কমিশনের সামনে তুলে ধরেন। কমিশনের সদস্যদের কাছে বাচ্চু সরকার দাবি করেন, মানসিক চাপ ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তিনি ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। তিনি নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চান।
তদন্ত চলাকালীন কমিশনের কাছে আরও অভিযোগ উঠে আসে যে, রানু বালা সরকারের বড় ছেলে বাদল সরকার একটি কেন্দ্রীয় সংস্থায় কর্মরত এবং বর্তমানে আগরতলায় বসবাস করেন। অভিযোগ, তিনি পৈতৃক সম্পত্তির অংশ গ্রহণ করলেও বর্তমানে বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা বা খোঁজখবর নেন না।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন ঝর্না দেববর্মা বলেন, মা-বাবার প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি বলেন, যেসব সন্তান বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালন করে না, তারা সমাজের কাছে কলঙ্কিত হয়ে থাকে। সন্তানদের মানুষ করে তোলার ক্ষেত্রে মা-বাবার ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, গর্ভধারিণী মায়ের প্রতি এ ধরনের আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, সমাজে যতদিন এ ধরনের মানসিকতার সন্তান থাকবে, ততদিন প্রবীণ মা-বাবাদের অবহেলার শিকার হতে হবে। রাজ্য মহিলা কমিশন এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।



















