ইম্ফল, ১৪ জুন (আইএএনএস): মণিপুরে জাতিগত সংঘর্ষের সময় লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) মুকেশ সিং। তিনি জানান, বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডিজিপি বলেন, যারা এখনও বেআইনিভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী বেআইনিভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রাখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেবে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যে কোনও মূল্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
ডিজিপি আরও সতর্ক করে বলেন, কর্তব্যরত পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলা বা গুলি চালানোর চেষ্টা করলে তারও কঠোর আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি অভিযান এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
মণিপুর পুলিশ নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছে, যাতে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রুত নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশন বা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া হয়।
সামাজিক মাধ্যমে গুজব বা ভুয়ো তথ্য ছড়ানো থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানান মুখেশ সিং। তাঁর বক্তব্য, এখনও অনলাইনে বিপুল পরিমাণ বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের একটি সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল রয়েছে, যা ভুয়ো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। সমাজবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী সাইট এবং প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, আগে লাদাখ-এর পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুখেশ সিং গত ১ জুন মণিপুরের ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত দুই দিনে তিনি ইম্ফল পূর্ব, চুড়াচাঁদপুর এবং বিষ্ণুপুর জেলা সফর করেছেন। সেখানে তিনি পুলিশ, সেনা, আধাসামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ প্রবণতা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন।
ডিজিপি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে বলেন, জনসেবার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, পক্ষপাতহীনতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। তাঁদের উদ্বেগের বিষয়গুলি শোনেন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি শান্তি, সংলাপ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিভিন্ন ইউনিটের কাজের প্রশংসা করেছেন ডিজিপি। মাদক উদ্ধার, সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাফল্যের জন্য জেলা পুলিশকেও তিনি অভিনন্দন জানান।
তিনি সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংগঠিত অপরাধ ও জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। জাতিগত সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদ ও স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর হাতে থাকা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩ মে মণিপুরে জাতিগত হিংসা শুরু হওয়ার পর পুলিশ স্টেশন, পুলিশ ফাঁড়ি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রাগার থেকে ৬,০০০-এরও বেশি আধুনিক অস্ত্র এবং কয়েক লক্ষ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট করা হয়েছিল।
এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন. বিরেন সিং ৩১ মে ২০২৩-এ অস্ত্র সমর্পণের আবেদন জানান। পরে মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা নতুন করে আবেদন জানালে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান আরও গতি পায়।
























