নয়াদিল্লি, ১১ জুন (আইএএনএস): ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বৃহস্পতিবার মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নীতিআয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের ১১তম বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার (কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম) চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ভারতের উন্নয়নযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে একসঙ্গে কাজ করছি। বিকশিত ভারতের যে অভিন্ন স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির সম্মিলিত উদ্যোগই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।”
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এ বছরের বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’। বয়স, অঞ্চল, লিঙ্গ বা আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণ ও উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের রূপরেখা এবং তা কীভাবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য সুফল হিসেবে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
নীতিআয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের এই বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনার কেন্দ্রে ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন কাঠামোর চারটি মূল স্তম্ভ—মানবসম্পদের মৌলিক ভিত্তি গঠন ও ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা বিকাশ, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, উদ্যোগপতি সৃষ্টি ও বিকেন্দ্রীভূত প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামগ্রিক সুস্থতা, সকলের জন্য সমতা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ।
এছাড়াও উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ উন্নত করা, দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে এমন একটি বাস্তবায়ন রূপরেখা তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে সুশাসন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), বিভিন্ন প্রকল্পের সমন্বয়, অংশীদারিত্ব এবং তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থার সদ্ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে জবাবদিহি ও কার্যকর ফল নিশ্চিত করা যায়।
নীতিআয়োগের বৈঠকে রাজ্যগুলির নিজস্ব উন্নয়ন-ভাবনাকে জাতীয় অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যাতে সমতাভিত্তিক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত পন্থা গড়ে ওঠে।
এছাড়া ২০২৫ সালের ২৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় মুখ্যসচিব সম্মেলনের সুপারিশগুলিও বৈঠকে আলোচনার জন্য উত্থাপিত হয়েছে। সম্মেলনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সুপারিশ করা হয়েছিল— প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা: মজবুত ভিত্তি গঠন, স্কুল শিক্ষা: ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ, দক্ষতা উন্নয়ন: ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত কর্মশক্তি তৈরি, উচ্চশিক্ষা: জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠন, খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম: শ্রেণিকক্ষের বাইরের বিকাশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারতের লক্ষ্য অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।



















