নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলার লাখিওয়ালা গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি ‘বিদুর প্রেরণা স্বদেশি হার্বাল টি’-র ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৬তম পর্বে তিনি বলেন, এই ভেষজ চা শুধু স্বাদই দেয়নি, বহু মহিলার জীবনে আত্মনির্ভরতার নতুন সুবাসও ছড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতীয় যুবসমাজ ও ‘নারী শক্তি’-র সাম্প্রতিক সাফল্যেরও প্রশংসা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে চা শুধু একটি পানীয় নয়, এটি একসঙ্গে থাকার অনুভূতির প্রতীক। দিনের শুরু, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—সব ক্ষেত্রেই চা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আমার নিজের জীবনেও চায়ের সঙ্গে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আজ যে চায়ের কথা বলছি, তা শুধু স্বাদই দেয়নি, বহু মহিলার জীবনে আত্মনির্ভরতার সুবাসও ছড়িয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর জেলার লাখিওয়ালা গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা তৈরি করেছেন ‘বিদুর প্রেরণা স্বদেশি হার্বাল টি’।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ভেষজ চায়ে লেমনগ্রাস, গিলয়, যষ্টিমধু, তুলসি, কাঁচা হলুদ, দারুচিনি, এলাচ এবং মৌরির মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই এই চা মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ এবং দিল্লির আন্তর্জাতিক ফুড ফেস্টিভ্যালে এই হার্বাল চা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিদেশি দর্শনার্থীরাও এই চায়ের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, মাত্র এক লক্ষ টাকা বিনিয়োগ দিয়ে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এই ব্র্যান্ড দেশের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “স্থানীয় জ্ঞান, প্রকৃতি এবং মহিলাদের আত্মবিশ্বাস একসঙ্গে কাজ করলে ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।”
অনুষ্ঠানে দেশের ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সম্প্রতি খেলাধুলার জগতে আমাদের যুবসমাজ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। ব্যাডমিন্টনে পিভি সিন্ধু জাপান ওপেনের শিরোপা জয়ী প্রথম ভারতীয় হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যে গোটা দেশ গর্বিত।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস মাঠে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের টেস্ট জয় দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। ২৭০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ভারতীয় মহিলা দল ইতিহাস গড়েছে।
তিনি বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক জয়। শুধু ২৭০ রানের ব্যবধানে জয়ই নয়, লর্ডসের দীর্ঘ ইতিহাসে এটিই ছিল কোনও মহিলা দলের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। ১৯৮৩ সালে এই মাঠেই ভারত প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছিল। এবার সেই একই মাঠে আমাদের ‘নারী শক্তি’ দেশের গৌরব আরও বাড়িয়ে দিল।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজ এবং মহিলা ক্রীড়াবিদদের এই ধারাবাহিক সাফল্য ভারতের নতুন আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতার প্রতিফলন, যা আগামী প্রজন্মকে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।



















