নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা সংরক্ষণের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ‘ক্যাচ দ্য রেন’ অভিযানে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৬তম পর্বে তিনি বলেন, গ্রাম থেকে শহর, পঞ্চায়েত থেকে সামাজিক সংগঠন—সব স্তরেই জল সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে এক গণআন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ‘মন কি বাত’-এর আগের পর্বে তিনি বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা সংরক্ষণের জন্য ‘ক্যাচ দ্য রেন’-কে জনআন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “এই অভিযানের মূল বার্তা খুবই সহজ—যেখানে এবং যখন বৃষ্টি হবে, সেখানেই সেই জল সংরক্ষণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই ৪ জুলাই থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ, পুরনো জলাশয়ের পুনরুজ্জীবন এবং বৃক্ষরোপণের কাজে নতুন গতি এসেছে।”
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলির উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গ্রাম হোক বা শহর, পঞ্চায়েত হোক বা সামাজিক সংগঠন—সর্বত্র মানুষের উৎসাহ চোখে পড়ছে। কোথাও পুরনো পুকুর থেকে পলি অপসারণ করা হচ্ছে, কোথাও আবার কুয়ো ও সোপানকূপ পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। বহুদিন ব্যবহারহীন বোরওয়েল এখন ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
দেশের বিভিন্ন রাজ্যের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় প্রায় ১,৫০০টি নতুন পুকুর তৈরি হয়েছে। নরসিংহপুরে একাধিক ‘অমৃত সরোবর’ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের নাসিকে এই অভিযানের মাধ্যমে জল সংরক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্ধ্রপ্রদেশের নান্দিয়াল জেলায় প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছে এবং বহু পুরনো পুকুর পুনরুজ্জীবিত করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, শহরগুলিতেও এই উদ্যোগের ইতিবাচক ফল মিলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ছত্তীসগঢ়ের কোরবা, ওডিশার ভুবনেশ্বর এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরমে ‘ক্যাচ দ্য রেন’ অভিযানের উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা প্রত্যেকে আমাদের আশপাশের একটি পুকুর, কুয়ো বা জলাশয়ের দায়িত্ব নিই। প্রতিটি জলবিন্দু সংরক্ষণ করি। আজ যে প্রতিটি ফোঁটা জল আমরা বাঁচাতে পারব, সেটাই আগামী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।”



















