নয়াদিল্লি, ১১ জুন (আইএএনএস): ভারতের যুবসমাজের ক্ষমতায়ন সরকারে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণের পথে দেশের তরুণরাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।
বৃহস্পতিবার নীতিআয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) একটি ঐতিহাসিক সুযোগ, যা কোনওভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না। গুণগত শিক্ষা, চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে যুবসমাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ক্ষমতায়িত যুবকরাই বিকশিত ভারতের পথে আমাদের যাত্রার প্রধান শক্তি হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রবৃদ্ধি ও রফতানির নতুন সুযোগ তৈরি করতে ভারত ইতিমধ্যেই একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই চুক্তিগুলি দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)-এর জন্যও বড় সুযোগ তৈরি করছে। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাচ্ছে এমএসএমই ক্ষেত্র।”
মোদি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারতের লক্ষ্য অর্জনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করছে।
তাঁর কথায়, “সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ভারতের উন্নয়নযাত্রাকে আরও দ্রুততর করার জন্য একযোগে কাজ করছি। বিকশিত ভারতের অভিন্ন স্বপ্ন বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এ বছরের নীতিআয়োগ গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’।
এই বৈঠকে বয়স, অঞ্চল, লিঙ্গ বা আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ উন্নত করা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া সুশাসন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), তথ্যভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের একটি সুসংহত রূপরেখা তৈরির উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল মূল্যায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়নের জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে রাজ্যগুলির উন্নয়ন ভাবনাকে সমন্বিত করতে হবে, যাতে সমতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ও বিকশিত ভারত গড়ে তোলা যায়।
_______



















