News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব পাশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার, দাঁড়িয়ে অভিবাদন মন্ত্রীদের
Image

দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব পাশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার, দাঁড়িয়ে অভিবাদন মন্ত্রীদের

নয়াদিল্লি, ১০ জুন (আইএএনএস): ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে ১০ জুন, ২০২৬-কে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে দেশের দীর্ঘতম সময় দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানাতে দীর্ঘক্ষণ টেবিল চাপড়ে ও করতালি দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি হাত জোড় করে সেই শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও) এই বিশেষ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গাডকারি, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে।

টানা তিনটি নির্বাচিত মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪,৩৯৯ দিন দায়িত্ব পালন করে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু-র ৪,৩৯৮ দিনের রেকর্ড অতিক্রম করেছেন।

মন্ত্রিসভার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “এই মুহূর্ত ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের আস্থা এবং জনঅংশগ্রহণের শক্তির প্রতীক। ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘দেশ সবার আগে’ আদর্শে পরিচালিত এক নেতার প্রতি দেশের মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থনের প্রতিফলন এটি।”

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারপ্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর দায়িত্ব পালনের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকেও এগিয়ে চলেছেন। পাশাপাশি ছয় দশক পর দেশের মানুষ টানা তৃতীয়বারের জন্য এনডিএ সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার নথিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির জীবনকে “দেশগঠন ও জনসেবার প্রতি নিরবচ্ছিন্ন উৎসর্গের প্রতীক” বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০১৪ সালে নিজেকে ‘প্রধান সেবক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর যে বার্তা তিনি দিয়েছিলেন, তারও উল্লেখ রয়েছে।

প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, দরিদ্র মানুষের কল্যাণকে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। পাকা বাড়ি, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, সরাসরি আর্থিক সহায়তা, ৮০ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য এবং ৬০ কোটিরও বেশি দরিদ্র নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার মতো বিভিন্ন কর্মসূচির কথা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়াও দাবি করা হয়েছে, এই উদ্যোগগুলির ফলে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে আসতে সক্ষম হয়েছেন এবং দেশের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুবসমাজের ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারের নীতির ফলে ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে চন্দ্রযান মিশন-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে দেশ বৈজ্ঞানিক শক্তি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে।

নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও ‘উইমেন-লেড ডেভেলপমেন্ট’-এর কথা উল্লেখ করে ধোঁয়ামুক্ত রান্নাঘর, ‘লক্ষপতি দিদি’ কর্মসূচি এবং আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের মতো পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে।

কৃষকদের ‘বিকশিত ভারত’-এর অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে পিএম কিষাণ সম্মান নিধি, পশুপালক ও মৎস্যজীবীদের জন্য কিষান ক্রেডিট কার্ড এবং কৃষি রপ্তানি ৫ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি অতিক্রম করার বিষয়ও প্রস্তাবে স্থান পেয়েছে।

দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা কর আইনের ৩৭০ ধারা রদ (জিএসটি), ওআরওপি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং শ্রম আইনগুলির সংহতিকরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, সীমান্তপারের বিমান হামলা, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করা হয়েছে।

এছাড়া নকশাল দমনে অগ্রগতি, উত্তর-পূর্ব ভারতে স্থায়ী শান্তিচুক্তি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে সফল জি-২০ সভাপতিত্ব, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস, আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং ‘মিশন লাইফ’-এর মতো উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়ন ও ঐতিহ্যকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দর্শনের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে নতুন সংসদ ভবন ও কর্তব্য পথের মতো প্রকল্পে। পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারির মতো বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবিলাতেও জনঅংশগ্রহণের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মন্ত্রিসভা পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে যে তাঁর নেতৃত্বে ভারত আত্মনির্ভর, নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে ২০৪৭ সালের লক্ষ্যে আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

Releated Posts

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল; সরিয়ে দেওয়া হল প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশকে

নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই(আইএএনএস) : নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার…

ByBySandeep Biswas Jul 21, 2026

রাহুলের ‘অবস্থান বদল’-এর অভিযোগে সরব জিতেন্দ্র সিং, সংসদে নিট-সহ সব ইস্যুতে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার

নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

ByBySandeep Biswas Jul 21, 2026

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বিরোধী সাংসদরা, ছাত্র দমনের অভিযোগে মোদীর পদত্যাগের দাবি

অভিজিৎ রায় চৌধুরী নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই : ছাত্রদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

ByBySandeep Biswas Jul 21, 2026

নতুন ফৌজদারি আইন দ্রুত, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করছে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই (আইএএনএস): দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক, দ্রুত, সহজ ও আরও স্বচ্ছ করে তুলতেই পুরনো ঔপনিবেশিক আইনগুলির…

ByByNews Desk Jul 21, 2026
Scroll to Top