নয়াদিল্লি, ৩১ মে (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৪তম পর্ব সম্প্রচারের পর বিজেপি নেতারা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের দাবি, এই অনুষ্ঠান এখন শুধু ‘মন কি বাত’ নয়, বরং ‘জন কি বাত’-এ পরিণত হয়েছে এবং এটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বিজেপি নেতা বীরেন্দ্র সচদেভা বলেন, “‘মন কি বাত’ এখন ‘জন কি বাত’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমন বহু তথ্য ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগের কথা জানা যায়, যা সাধারণত জনসমক্ষে খুব বেশি আসে না।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা সকলের অনুসরণ করা উচিত। “আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন হওয়া,” মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, বিশ্বের খুব কম সংখ্যক রাষ্ট্রনেতা রয়েছেন, যারা নিয়মিতভাবে দেশের মানুষের সঙ্গে এভাবে যোগাযোগ রাখেন।
তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ব রাজনীতিতে এ ধরনের নিয়মিত জনসংযোগ অত্যন্ত বিরল। অতীতে আমেরিকার মতো দেশে রাষ্ট্রনেতাদের রেডিও ভাষণ শোনা যেত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী এটিকে ধারাবাহিক ও ব্যাপক জনআলোচনার একটি মঞ্চে পরিণত করেছেন।”
বিজেপি সাংসদ প্রবীণ খান্ডেলওয়াল-ও ‘মন কি বাত’-কে একটি অসাধারণ উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই অনুষ্ঠান প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “সর্বশেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তীব্র গরমের পরিস্থিতি, খেলাধুলার জগতের অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।”
খান্ডেলওয়াল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ে জাতীয় রেকর্ড ভাঙার প্রসঙ্গ, যেখানে গুরিন্দরবীর সিং এবং অনিমেষ কুজুর মাত্র দু’দিনে তিনবার জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছেন।
এছাড়াও তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগ এবং গঙ্গার ডলফিন সংরক্ষণের জন্য চালু হওয়া বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার কথাও তুলে ধরেছেন।
খান্ডেলওয়ালের মতে, “এতে স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার মানবকল্যাণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণ রক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।”
বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক দুষ্যন্ত গৌতম বলেন, ‘মন কি বাত’ সারা দেশের শিশু ও যুবসমাজের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ তৈরি করে।
তিনি বলেন, “এটি কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। বরং ভারতের প্রতিভা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক উদ্যোগগুলিকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”
গৌতম আরও বলেন, “অনেক লক্ষ্য শুধুমাত্র সরকারের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সমাজ ও স্থানীয় সম্প্রদায় একসঙ্গে কাজ করলে অসাধারণ ফল পাওয়া যায়। ‘মন কি বাত’ সেই সম্মিলিত প্রয়াসেরই বার্তা দেয়।”
______



















