ঢাকা, ২৯ মে (আইএএনএস) : বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকার পূর্ববর্তী মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতাই বজায় রাখছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি দেশে আইনের শাসনের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার অভাবকেই সামনে আনছে।
এই প্রতিক্রিয়া আসে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ দাবিরুল ইসলামের মৃত্যুর পর। ৭৮ বছর বয়সী দাবিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অসুস্থতার কারণে জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মাস পর তাঁর মৃত্যু হলো।
জুলাই ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৩ অক্টোবর তাঁকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় দায়ের হওয়া একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিন পান।
ঠাকুরগাঁও-২ কেন্দ্রের সাতবারের সাংসদ দাবিরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনিও ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের “নির্যাতনের শিকার” হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, “ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিন পান। এটি যেন ছোট কারাগার থেকে বড় কারাগারে যাওয়ার মতো ছিল। অথচ একই মামলায় অভিযুক্ত তাঁর ছেলে, সাবেক সাংসদ মজহারুল ইসলাম সুজন এখনও মুক্তি পাননি। একই মামলায় দুই অভিযুক্তের ক্ষেত্রে আদালতের ভিন্ন সিদ্ধান্ত অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। এভাবেই নাৎসি ইউনূস সরকার আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান সরকারও একই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, যা আইনের শাসনের প্রতি কোনও দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে না।”
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, এর আগেও ঠাকুরগাঁও জেলার আরেক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু হয়েছিল। ঠাকুরগাঁও-১ কেন্দ্রের সাবেক সাংসদ ও মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলা কারাগারে পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মারা যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
তিনি বলেন, “একই জেলার দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত রাজনীতিকের মৃত্যু শুধুই কাকতালীয়, নাকি এটি পরিকল্পিত হত্যার অংশ, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”



















