ভুজ, ২৯ মে (আইএএনএস) : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে সদ্য গঠিত বিজেপি সরকার সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরে নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে এগোতে শুরু করেছে।
গুজরাটের ভুজে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর বর্ডার আউটপোস্ট জি-৭-এ জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অসম্পূর্ণ সীমান্ত বেড়া ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম “সবচেয়ে বড় দুর্বলতা” ছিল। তিনি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল বাংলায় অসম্পূর্ণ সীমান্ত বেড়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কিছু এলাকায় ভৌগোলিক সমস্যার কারণে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ কঠিন হলেও, যেখানে জমি উপলব্ধ ছিল, সেখানেও দীর্ঘদিন কাজ আটকে ছিল কারণ প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায়নি। অমিত শাহ বলেন, আমরা ভৌগোলিক পরিস্থিতি বদলাতে পারি না। কিন্তু যেখানে জমি ছিল এবং বেড়া নির্মাণ সম্ভব ছিল, সেখানেও এতদিন জমি পাইনি।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর বিষয়টি দ্রুত অগ্রাধিকার পেয়েছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেই বাংলার মানুষের আশীর্বাদে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সেখানে বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে এবং মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী সীমান্ত বেড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি দেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, জমি হস্তান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে আমরা বৃহৎ মাত্রায় অনুপ্রবেশ রোধ করতে সফল হব। তিনি আরও জানান, স্থলভাগে বেড়া নির্মাণ শেষ হলে জঙ্গল, নদী এবং জলপথই কেবল অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য পথ হিসেবে থাকবে। সেই এলাকাগুলির জন্যও সরকার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উপর দ্রুত কাজ করছে।
অমিত শাহ বলেন, তখন শুধু জঙ্গল, নদী ও জলপথই সম্ভাব্য রুট হিসেবে থাকবে এবং সেই এলাকাগুলির জন্যও আমরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রযুক্তিনির্ভর বেড়া ও নজরদারি ব্যবস্থার কাজ চালাচ্ছি। তিনি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার প্রচলিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাকেও যুক্ত করছে।
এদিন বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্মার্ট বর্ডার সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর কথাও উল্লেখ করেন। এই প্রকল্পে ড্রোন, রাডার, ওয়াচ টাওয়ার এবং অন্যান্য আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের সির ক্রিক ও হারামি নালা সেক্টরে নিরাপত্তা পরিকাঠামো ও প্রস্তুতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই অমিত শাহের ভুজ সফর বলে জানা গিয়েছে।



















