মুম্বই, ২৯ মে (আইএএনএস) : আফ্রিকার একাধিক দেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করল বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি)। সম্ভাব্য সংক্রমণ রুখতে মুম্বইয়ের কস্তুরবা হাসপাতালে বিশেষ ১০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে।
বিএমসি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ভারতে ইবোলার কোনও সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ঘটনা নেই। তবুও আফ্রিকার কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ইবোলার সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মুম্বইয়ের সংক্রামক রোগ চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র কস্তুরবা হাসপাতালকে সম্ভাব্য ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের রোগীদের জন্য মূল আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিধি মেনে চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
কস্তুরবা হাসপাতালের পাশাপাশি মুম্বইয়ের কামা হাসপাতালেও ৮ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে।
মুম্বইয়ের উপ-মেয়র সঞ্জয় ঘাড়ি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএমসি সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, কস্তুরবা হাসপাতালে বিশেষ বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই শহরের অন্যান্য হাসপাতালেও একই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
বিএমসি প্রশাসন কেম, সায়ন, নায়ার এবং কুপার হাসপাতাল-সহ একাধিক পুরসভা পরিচালিত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণ প্রোটোকল কার্যকর করা হচ্ছে।
মহারাষ্ট্র অ্যাসোসিয়েশন অব রেসিডেন্ট ডক্টরস (মার্ড) চিকিৎসকদের জন্য একটি বিশেষ পরামর্শিকা জারি করেছে। সেখানে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পরামর্শিকায় বলা হয়েছে, রোগীর সংস্পর্শে আসার সময় হাত পরিষ্কার রাখা এবং সার্বজনীন সুরক্ষা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা সংক্রান্ত বর্জ্য যথাযথ নিয়ম মেনে নিষ্পত্তি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনাবশত সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
মার্ড-এর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইবোলা সাধারণ পরিস্থিতিতে বায়ুবাহিত রোগ নয়, যেমন কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জা। এই ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, শরীরের তরল পদার্থ বা দূষিত চিকিৎসা সরঞ্জামের সরাসরি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর উপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।



















