নয়াদিল্লি/বেঙ্গালুরু, ২৯ মে (আইএএনএস) : কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার একদিন পর শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাসভবনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া।
সাক্ষাতের সময় রাহুল গান্ধী উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সিদ্ধারামাইয়াকে। করমর্দনের পর তাঁকে আলিঙ্গন করেন এবং একসঙ্গে ফটোতেও পোজ দেন দুই নেতা।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সিদ্ধারামাইয়ার পদত্যাগের পর কর্ণাটকের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আবহ তৈরি হয়েছে। যদিও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্ণাটকে দু’বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য এবং প্রায় টানা আট বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ায় সিদ্ধারামাইয়া রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান।
সূত্রের দাবি, বৈঠকে কর্ণাটকে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধারামাইয়া অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গেও আলোচনা করেন।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মন্ত্রী কে. জে. জর্জ, প্রিয়াঙ্ক খাড়গে এবং বিধান পরিষদের সদস্য তথা সিদ্ধারামাইয়ার পুত্র যতিেন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া।
যদিও বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মল্লিকার্জুন খাড়গে লেখেন, “সিদ্ধারামাইয়ার জনজীবন সবসময় মর্যাদা, সহমর্মিতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।”
তিনি আরও লেখেন, “অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দু’বার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সমতা, সম্প্রীতি এবং প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে তাঁর অঙ্গীকার অটুট ছিল। কর্ণাটক এবং কংগ্রেস দল তাঁর অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জনসেবামূলক কাজের জন্য শুভেচ্ছা জানাই।”
এদিকে, প্রাক্তন মন্ত্রী ও কংগ্রেস বিধায়ক দিনেশ গুন্ডু রাও সিদ্ধারামাইয়াকে “গরিব ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর” বলে উল্লেখ করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সিদ্ধারামাইয়া এমন একজন নেতা যিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সবসময় নিপীড়িত ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে ক্ষমতা বা পদ তাঁর কাছে বড় নয়, বরং দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শই তাঁর কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।”
সিদ্ধারামাইয়ার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রশংসা করে রাও বলেন, দরিদ্রতা ও ক্ষুধার কষ্ট তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছিলেন বলেই “ক্ষুধামুক্ত কর্ণাটক” গড়ার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ‘অন্ন ভাগ্য’ প্রকল্প চালু করেছিলেন, যা পরে গোটা দেশের কাছে একটি মডেল হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, “লক্ষ লক্ষ পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তিনি মানুষের হৃদয়ে ‘আন্নারামাইয়া’ হিসেবে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।”
রাও আরও জানান, খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহমন্ত্রী থাকাকালীন সিদ্ধারামাইয়া তাঁর উপর আস্থা রেখে এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
তিনি স্মরণ করেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘১০৮ সেন্ট্রালাইজড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’-এর উদ্বোধন করেছিলেন সিদ্ধারামাইয়া। সেটিই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শেষ সরকারি অনুষ্ঠান ছিল।
রাও বলেন, “এখন বিষয়টি অত্যন্ত আবেগঘন মনে হচ্ছে। দায়িত্বে থাকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের বিষয়েই তাঁর সরকার কাজ করে গিয়েছে।”
সিদ্ধারামাইয়ার প্রশাসনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে তিনি কখনও আপস করেননি এবং কংগ্রেস সরকারের পাঁচটি গ্যারান্টি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন।
বিরোধীদের ঋণসংকটের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাও বলেন, “এসব শুধুই রাজনৈতিক কৌশল, বাস্তবতার সঙ্গে যার কোনও সম্পর্ক নেই।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সিদ্ধারামাইয়া দেখিয়ে দিয়েছেন একজন প্রকৃত সমাজবাদী কীভাবে জীবনযাপন করেন। তাঁর জীবন আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা।”
শেষে রাও আশা প্রকাশ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও কর্ণাটকে শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি বজায় রাখতে সিদ্ধারামাইয়া সক্রিয় থাকবেন।



















