বেজিং, ২৮ মে (আইএএনএস): ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় ব্যবস্থার (ডব্লিউএমসিসি) ৩৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হল বেজিংয়ে। বৈঠকে সীমা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পারস্পরিক সমন্বয় কাঠামো গঠন এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ আন্তঃসীমান্ত নদী সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক দ্রুত আয়োজনের উপর জোর দেয়। দুই দেশই কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। বিশেষ প্রতিনিধি (এসআর) পর্যায়ের ২৪তম বৈঠকে যে সিদ্ধান্তগুলি হয়েছিল, সেই কাঠামোর আওতায় এই যোগাযোগ বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (এমইএ) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আলোচনা ছিল গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী। ভারত-চিন সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে।”
ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্মসচিব (পূর্ব এশিয়া) সুজিত ঘোষ। চিনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন চিনের বিদেশ মন্ত্রকের বাউন্ডারি অ্যান্ড ওশানিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের মহাপরিচালক হউ ইয়ানচি।
দুই দেশই পরবর্তী বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। আগামী বৈঠকটি চিনে অনুষ্ঠিত হবে।
সফর চলাকালীন ভারতীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান সুজিত ঘোষ চিনের বিদেশ মন্ত্রকের এশিয়া বিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক লিউ জিনসং এবং সহকারী বিদেশমন্ত্রী হং লেই-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে এপ্রিল মাসে নয়াদিল্লিতে ভারত ও চিনের মধ্যে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছিল। সেখানে এসসিও নেতাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়, এসসিও-সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
১৬ ও ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভারতের এসসিও ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর রাষ্ট্রদূত অলোক এ. দিমরি এবং চিনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়েনবিন।
দুই প্রতিনিধিদল যৌথভাবে বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সেখানে এসসিও কাঠামোর আওতায় নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সংযোগ ব্যবস্থা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়।
বর্তমানে ২০২৫-২৬ সালের জন্য এসসিও-র চেয়ারম্যান পদে রয়েছে কিরগিজস্তান। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ এবারের সভাপতিত্বের মূল প্রতিপাদ্য ঘোষণা করেছেন — “এসসিও-র ২৫ বছর: টেকসই শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে একসঙ্গে।”



















