শ্রীনগর, ২৫ মে (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় ১২ বছরের এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গোটা কাশ্মীর জুড়ে শোক, ক্ষোভ এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নৃশংস এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপত্যকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
রবিবার বুদগামের গালওয়ানপোরা এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। গত ২৩ মে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য শিশুদের সেমিনারি ‘দারসগাহ’-এ যাওয়ার পথে সে নিখোঁজ হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
মুসলিম সম্প্রদায় যখন পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা গোটা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় বুদগাম থানায় এফআইআর নম্বর ১৩৯/২০২৬ দায়ের হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি অপহরণ, ধর্ষণ এবং খুনের মামলা বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঘটনার পর জম্মু ও কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা পুলিশ মহাপরিচালক ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “মধ্য কাশ্মীরের বুদগামে এক কিশোরীর হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। আমাদের সমাজ কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, “এই ঘটনায় আমি ভেঙে পড়েছি। ধর্ষণের অভিযোগ বিষয়টিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, আমাদের শিশুরা আদৌ নিরাপদ কি না।”
সৈয়দ আলতাফ বুখারী বলেন, “এমন বর্বর অপরাধ শুধু পশুসুলভ মানসিকতার কেউই করতে পারে। অপরাধীদের দ্রুত কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে।”
কাশ্মীরের প্রধান ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, “আমাদের সমাজ কোথায় যাচ্ছে, যদি শিশুরাও শিক্ষার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে নিরাপদ না থাকে? এই ঘটনা সকলের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।”
এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের শিক্ষামন্ত্রী সাকিনা ইতু মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং দ্রুত সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।
ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে বুদগামের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।



















