কলকাতা, ২৩ মে : বেহালায় পশ্চিম ত্রিপুরার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের সভার মঞ্চে আগুন লাগানোর ঘটনায় যার নাম উঠে এসেছিল, সেই তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে অবশেষে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তোলাবাজি ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠছিল সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, নির্মাণকাজ, দোকানপাট এবং স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপর চাপ সৃষ্টি করে নিয়মিত টাকা তোলা হত। এই নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। এরপরই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত কাউন্সিলরকে আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বহুদিন ধরেই সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, তোলাবাজি ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে বেহালায় বিপ্লব কুমার দেবের সভামঞ্চে আগুন লাগানোর ঘটনায় তার নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে বেহালায় বিজেপির একটি রাজনৈতিক সভার আগে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের সভামঞ্চে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি তৃণমূলের একাংশকে দায়ী করেছিল। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি কাজ চললেও প্রশাসন নীরব ছিল। তবে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারির পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



















