আগরতলা: স্বাস্থ্য পরিষেবা রাজ্য সরকারের কাছে একটা অন্যতম অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আশা কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে কর্মরত আশা কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে চিন্তাভাবনা করছে বর্তমান সরকার।
আজ হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনী ময়দানে ইন্ডোর হলে আয়োজিত রাজ্যভিত্তিক আশা কনভেনশনের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ২০১৭ সালের পর দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর বাদে রাজ্যভিত্তিক এই আশা কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে। আশা মানে অ্যাক্রিডিয়েটেড সোশ্যাল হেল্থ অ্যাক্টিভিস্ট। তাই সমস্ত মানুষ আপনাদের কাছ থেকে একটা আশার কিরণ আশা করে। আর সেটাই করছেন আপনারা। আমি গতকালও টিআরবিটির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট) মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮০০ অফার বিতরণ করেছি। ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারের সময়ে দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয়না। আজ এই কনভেনশনের মাধ্যমে মহিলা ক্ষমতায়নের এক ঝলক আমরা প্রত্যক্ষ করতে পেরেছি। মহিলা ক্ষমতায়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ মহিলা। মহিলাদের ৩৩% সংরক্ষণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের স্বশক্তিকরণের লক্ষ্যে একটা সংশোধনী আনতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ ২০২৩ এ সেই বিল পাস হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আশা কর্মীরা নিরলসভাবে মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৫ এ ন্যাশনাল হেল্থ মিশন (জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন) শুরু হওয়ার পর মিশনের কর্মকান্ড গ্রাম ও শহরের সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন আশা কর্মীরা। স্বাস্থ্য ক্ষেত্র আমাদের কাছে একটা অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। রাজ্য সরকার চেষ্টা করছে কীভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রকে আরো শক্তিশালী করা যায়। প্রতিটা ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরিষেবার নানাবিধ সুফল পৌঁছে দিচ্ছেন আশা কর্মীরা। তাই এর চাইতে বড় বিষয় কিছু হতে পারে না। আজকের কনভেনশনের থিম – একতাই গড়ি সুস্থ রাজ্য। কারণ সবাই সুস্থ থাকলে সবকিছু সুস্থ থাকবে। নতুন ত্রিপুরা গড়ে তোলার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিউ ইন্ডিয়া এর শ্লোগান দিয়েছেন। আমরাও সেই দিশায় কাজ করছি।
অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আশা কর্মী বোনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসচেতনতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, টীকাকরণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। আমাদের সরকার আশা কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। রাজ্যে কর্মরত ৭,৮৬৬ জন আশা কর্মীর সাম্মানিক বৃদ্ধি, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং সার্বিক কল্যাণে চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মানবিক সেবার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের মিশন ডিরেক্টর জি এস নায়েক, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবাশ্রী দেববর্মা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধ দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাস, মেডিকেল এডুকেশনের অধিকর্তা প্রফেসর ডাঃ এইচ পি শর্মা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের যুগ্ম মিশন অধিকর্তা ডাঃ নুপুর দেববর্মা সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ।


















