নয়াদিল্লি, ২ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ৪ মে ভোটগণনার আগে বিশেষ শনিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে আদালত নির্বাচন কমিশনকে (ইসিআই) নির্দেশ দিয়েছে, তাদের জারি করা সার্কুলার “হুবহু মেনে চলতে হবে”।
বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। হাইকোর্ট আগেই ইসিআই-এর গণনাকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল।
শুনানির সময় ইসিআই-এর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী দামা নাইডু আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, ভোটগণনার সময় রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকবেন, যেমনটি কমিশনের সার্কুলারে উল্লেখ রয়েছে। এই আশ্বাস নথিভুক্ত করে সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ লিভ পিটিশন (এসএলপি) নিষ্পত্তি করে দেয়।
বেঞ্চ জানায়, “এই মামলায় আর কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ইসিআই-এর সার্কুলার যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে—এই বক্তব্য আমরা নথিভুক্ত করছি।”
তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল যুক্তি দেন, গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের অধিক নিয়োগ রাজ্য প্রশাসনের প্রতি অযথা সন্দেহ প্রকাশ করে এবং এটি সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তিনি অভিযোগ করেন, সার্কুলারে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধির কথা বলা হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
তবে বিচারপতি বাগচী পর্যবেক্ষণ করেন, নিয়ম অনুযায়ী ইসিআই কেন্দ্রীয় বা রাজ্য—যে কোনও সরকারি কর্মীকেই গণনার কাজে নিয়োগ করতে পারে। বিচারপতি নরসিমহাও তৃণমূলের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, গণনার সময় প্রার্থীদের এজেন্ট, মাইক্রো-অবজার্ভারসহ একাধিক পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।
আদালত শেষ পর্যন্ত জানায়, কমিশনের নিজস্ব সার্কুলার মেনে চলাই যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও বলেছিল, গণনাকর্মী হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারি বা সিপিএসইউ কর্মী নিয়োগে কোনও আইনি বাধা নেই এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ইসিআই-এর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। আদালত আরও জানায়, প্রতিটি গণনা টেবিলে মাইক্রো-অবজার্ভার ও প্রার্থীদের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকায় নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে।


















