আগরতলা, ২ মে: কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়ে রাজ্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ জেলার ঋষ্যমুখ কৃষি মহকুমার অন্তর্গত উত্তর সোনাইছড়ি এলাকায় আত্মা প্রকল্পের মাধ্যমে পেঁয়াজ চাষে এক নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
চলতি বছরে ঋষ্যমুখ কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে উত্তর সোনাইছড়ি এলাকার কয়েকজন কৃষককে পেঁয়াজ চাষের জন্য উন্নত মানের বীজ সরবরাহ করা হয়। যেহেতু এই চাষে কৃষকরা একেবারেই নতুন, তাই দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি তত্ত্বাবধায়ক সুজিত কুমার দাস নিজে উদ্যোগ নিয়ে বীজ সংগ্রহ করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। পাশাপাশি সেক্টর অফিসার অভিজিৎ দত্ত নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চাষাবাদ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
আজ উত্তর সোনাইছড়ির শত্রুঘ্নপাড়া এলাকার কৃষক নিলু পদ ধরের পেঁয়াজ চাষের জমি পরিদর্শন করে ঋষ্যমুখ কৃষি দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল। উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সুজিত কুমার দাস, সেক্টর অফিসার অভিজিৎ দত্ত, প্রণব মালাকার, বিএলডব্লিউ জয়ন্ত দাসসহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তারা জমির ফলন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুধু উত্তর সোনাইছড়ি নয়, ঋষ্যমুখ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রকল্পের আওতায় পেঁয়াজ চাষ শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ভালো ফলনের ইঙ্গিত মিলেছে।
উত্তর সোনাইছড়ির কৃষক নিলু পদ ধরের পাশাপাশি আরও কয়েকজন কৃষক প্রথমবারের মতো এই চাষে অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রথম বছরেই আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন তারা।
কৃষক নিলু পদ ধর জানান, প্রায় এক গন্ডা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে তিনি প্রায় ৭০ কেজি ফলন পেয়েছেন। প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি ভালো লাভও অর্জন করেছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও সরকারি সহযোগিতার ফলে ঋষ্যমুখ এলাকায় পেঁয়াজ চাষে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



















