নয়াদিল্লি, ২ মে (আইএএনএস): উচ্চ ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের পর ৪ মে ঘোষিত হতে চলা জনমত বামপন্থী দলগুলির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেরলে জোট সরকার বজায় রাখা ছাড়া দেশের অন্যান্য রাজ্যে বামেদের প্রভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে।
এক্সিট পোলগুলিতে যদিও তিরুবনন্তপুরমে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত মিলেছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে মূল লড়াইয়ের পাশাপাশি বামফ্রন্ট নিজেদের সংগঠনে নতুন ও তরুণ মুখ তুলে আনার চেষ্টা করে আলোচনায় এসেছে। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বামপন্থীরা, যার মধ্যে অনেকেই ৪৫ বছরের নিচে এবং যুব সংগঠন থেকে উঠে আসা।
তবে এই নতুন প্রজন্মের নেতারা কতটা তৃণমূল ও বিজেপির দখলে থাকা রাজনৈতিক জমিতে প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি যে বামেদের টিকে থাকার লড়াই, তা স্পষ্ট।
কেরলে সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এখনও প্রাসঙ্গিক রয়েছে। ১৯৫৭ সালে বিশ্বের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার গঠনের ইতিহাস রয়েছে সেখানে। ১৯৮০-র দশক থেকে এলডিএফ ও ইউডিএফ পালা করে ক্ষমতায় এসেছে এবং ১৯৮০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ছয়বার সরকার গঠন করেছে।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকার প্রশাসনিক সাফল্যের দাবি করলেও দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, স্থবিরতা এবং নেতৃত্বকেন্দ্রিকতার অভিযোগের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়ন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে, বিশেষত রাজ্যের আর্থিক চাপ ও যুব বেকারত্ব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে।
পশ্চিমবঙ্গে একসময় সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট দীর্ঘ ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল। ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় এসে ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েত শক্তিশালীকরণ এবং জনমুখী নীতির মাধ্যমে তারা শক্ত ভিত গড়ে তোলে। জ্যোতি বসুর পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শিল্পায়নের উপর জোর দিলেও সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের জেরে গ্রামীণ সমর্থন ক্ষয়ে যায়।
২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর ধীরে ধীরে রাজ্যে বামেদের প্রভাব কমতে থাকে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে তারা একটি আসনও পায়নি এবং ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের একটিতেও জয় পায়নি।
ত্রিপুরাতেও ২০১৮ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এসে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটায়।
বর্তমানে বামেদের সাংগঠনিক সংকটের একটি বড় কারণ প্রবীণ নেতৃত্বের আধিক্য। এই পরিস্থিতি বদলাতে দল সর্বভারতীয় স্তরে ৭৫ বছরের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করেছে এবং রাজ্যস্তরেও ৭০ বছরের বেশি বয়সী নেতাদের সরিয়ে তরুণদের সামনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
এই প্রজন্ম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ না হলেও, প্রথমবার ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, সামাজিক মাধ্যমের রাজনীতিতে মানিয়ে নেওয়া এবং তুলনামূলকভাবে নমনীয় ভাবমূর্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।



















