রায়পুর, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): মধ্য ভারতের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বড় সাফল্য—ছত্তীসগড়ে আবারও দেখা মিলছে ব্ল্যাকবাক বা কালো হরিণের। রবিবার নিজের মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এ এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তিনি জানান, একসময় স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ব্ল্যাকবাক এখন আবার ছত্তীসগড়ের খোলা প্রান্তরে অবাধে বিচরণ করছে। দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ও পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলেই এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে।
রাজ্যের বনদপ্তরের উদ্যোগে বারনাওয়াপাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য-কে কেন্দ্র করে পাঁচ বছরের পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে ব্ল্যাকবাককে স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করার পর নয়াদিল্লির জাতীয় চিড়িয়াখানা এবং বিলাসপুরের কানন পেন্ডারি জুলজিক্যাল গার্ডেন থেকে এনে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে একটি স্বনির্ভর জনসংখ্যা গড়ে উঠেছে, যা এই প্রকল্পের সাফল্য প্রমাণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের অন্যান্য অংশেও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল মিলছে। বিশেষ করে মারাত্মকভাবে বিপন্ন গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড-এর সংরক্ষণে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। গুজরাটে রাজস্থান থেকে আনা ডিমের মাধ্যমে সফলভাবে ছানা ফোটানো হয়েছে, যা আন্তঃরাজ্য উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
এছাড়াও মানব-প্রাণী সহাবস্থানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে জানান তিনি। ছত্তীসগড়ে স্থানীয় মানুষদের উদ্যোগে মানব-হাতি সংঘাত কমাতে কার্যকর মডেল গড়ে উঠেছে। “হাতি মিত্র দল” নামে স্বেচ্ছাসেবী দলগুলি ড্রোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হাতির চলাচলের খবর আগে থেকেই জানিয়ে দেয়, ফলে ফসল ও মানুষের জীবন—দুইই সুরক্ষিত থাকে।
এই ধরনের উদ্যোগের ফলে সংঘাত কমেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা বেড়েছে। সাধারণ মানুষকে সংরক্ষণের অংশীদার করে তোলার মাধ্যমে উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্ল্যাকবাকের প্রত্যাবর্তন এবং হাতির করিডর রক্ষা—এই দুইই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতীক।



















