নয়াদিল্লি, ২৪ এপ্রিল (আইএএনএস): রাজ্যসভার মোট ৭৩ জন বিরোধী সাংসদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর অপসারণের দাবিতে নোটিস জমা দিয়েছেন। এই মর্মে রাজ্যসভার সচিব-জেনারেলের কাছে প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে পাঠানো এই প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিইসি “প্রমাণিত অসদাচরণ”-এ লিপ্ত হয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড সংবিধানবিরোধী এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।
নোটিসে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪(৫) এবং অনুচ্ছেদ ১২৪(৪), পাশাপাশি ২০২৩ সালের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, পরিষেবা শর্ত ও কার্যকাল) আইন-এর ধারা ১১(২) এবং ১৯৬৮ সালের বিচারক (তদন্ত) আইন-এর উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই আইনি কাঠামোগুলিই সিইসি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ভিত্তি প্রদান করে।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট নয়টি নির্দিষ্ট অভিযোগ বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পদে সিইসি-র বহাল থাকা “সংবিধানের উপর আঘাত” এবং “চরম লজ্জাজনক”। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বার্থে কাজ করতেই তিনি পদে বহাল রয়েছেন।
বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে একটি বিরল ও গুরুতর রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ একটি অসাধারণ প্রক্রিয়া, যার জন্য সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ প্রয়োজন। বিরোধীদের দাবি, আনা অভিযোগগুলি “অস্বীকার বা ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব নয়”।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শাসক দল এই প্রস্তাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করতে পারে বলেই অনুমান। তবে বিরোধীরা দাবি করেছে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতার সঙ্গে জড়িত।
এখন রাজ্যসভার সচিবালয় এই নোটিসটি পরীক্ষা করবে এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে সিইসি-র কার্যকলাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের পক্ষ থেকে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।



















