নয়াদিল্লি, ২৪ এপ্রিল (আইএনএস): ভারতের মুদ্রা স্বল্পমেয়াদে চাপের মধ্যে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রুপি “মৌলিকভাবে অবমূল্যায়িত” এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি ভালো প্রবেশপথ হতে পারে।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাগেশ্বরন জানান, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় রুপির বর্তমান মূল্যায়ন বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করছে।
বিশ্ব অর্থনীতির চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রুপির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার টানা পঞ্চম দিনের মতো পতন হয়ে ডলারের বিপরীতে রুপি ২৪ পয়সা কমে ৯৪.২৫ স্তরে নেমে আসে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে।
এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে অর্থ প্রত্যাহারও রুপির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বহির্গমন ইতিমধ্যে গত বছরের রেকর্ড ১৮.৭৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি বছরে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পারফর্মিং মুদ্রা হিসেবে রুপি চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জ্বালানি আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এর প্রধান কারণ।
তবে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী। সম্প্রতি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যদিও কিছু অর্থনীতিবিদ পূর্বাভাস কমিয়েছেন।
এর আগে নাগেশ্বরন সতর্ক করেছিলেন, তেলের দামের বৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় লাগবে। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, লজিস্টিক ও বীমা খরচ বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়া—এই চারটি চ্যানেলে অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ধৈর্য রাখা প্রয়োজন এবং অর্থনৈতিক স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে সময় লাগবে।


















