আনন্দ, ২৩ এপ্রিল (আইএএনএস): গুজরাটের আনন্দ জেলার উমরেঠ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শহর ও গ্রামীণ—উভয় এলাকার ভোটকেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তা ও ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই উপনির্বাচনে উমরেঠ কেন্দ্রে মোট ২,৪৫,৬২৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। জেলার নির্বাচন দফতর ৩০৬টি ভোটকেন্দ্র তৈরি করেছে, যার মধ্যে ৬৮টি শহরাঞ্চলে এবং ২৩৮টি গ্রামীণ এলাকায়। উমরেঠ তালুকের ৪৬টি গ্রাম, পাশাপাশি ওডে, উমরেঠ ও বোরিয়াভি পুরসভা এই কেন্দ্রের অন্তর্গত।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। আগামী ৪ মে ভোটগণনা হবে।
এই কেন্দ্রে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন আধিকারিকদের মতে, প্রথমবারের ভোটার (১৮-১৯ বছর বয়সী) ৪,১৭৪ জন এবং ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটার রয়েছেন ১,৫৫৬ জন। এছাড়াও, ১,৫৪৬ জন বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার তালিকাভুক্ত আছেন। ইতিমধ্যেই ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে ৮৮ জন প্রবীণ নাগরিক এবং ১৩ জন বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার বাড়িতে বসেই ভোট দিয়েছেন।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ১,৩৪৮ জন ভোটকর্মী, ২২ জন মাইক্রো অবজারভার এবং ১৯ জন জেলা স্তরের নোডাল আধিকারিকসহ মোট প্রায় ১,৫০০ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের আগে একাধিক ধাপে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে দুই জন ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ, চার জন পুলিশ ইন্সপেক্টর, প্রায় ৫০০ জন পুলিশ ও হোমগার্ড এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স-এর তিনটি কোম্পানি।
ভোটারদের সুবিধার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২১৮টি হুইলচেয়ার, ৩৬১ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য ছয়টি বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটার সহায়তা বুথও রয়েছে।
ভোটাররা আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, মনরেগা জব কার্ডসহ মোট ১২ ধরনের বৈধ পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারবেন। প্রবাসী ভারতীয় ভোটারদের ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট দেখানো বাধ্যতামূলক।
নির্বাচনী ডিউটিতে থাকা ২১২ জন কর্মী ইতিমধ্যেই ১৫ থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন চিকিৎসা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। আনন্দ ও করমসাদের বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে ভোটকর্মীদের জন্য ক্যাশলেস জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গরমজনিত সমস্যা এড়াতে ভোটকেন্দ্রে ওআরএস প্যাকেটও বিতরণ করা হয়েছে।
সারাদিনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
উল্লেখ্য, বিজেপির দুইবারের বিধায়ক গোবিন্দ পারমার-এর সাম্প্রতিক মৃত্যুর পর এই আসনটি শূন্য হয়। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন এই উপনির্বাচনের ঘোষণা করে।



















