বার্লিন, ২১ এপ্রিল (আইএএনএস): জার্মানির মোয়ের্স শহরের ডুইসবুর্গ এলাকায় একটি গুরদোয়ারার ভিতরে হিংসাত্মক সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। ঘটনায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিটও পাঠানো হয়েছে বলে জার্মান সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০ জন এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং গুরদোয়ারার ভিতরেই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র হাতাহাতি চলছে।
সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র যেমন ছুরি ও কৃপাণ ব্যবহার করা হয়। কিছু রিপোর্টে পেপার স্প্রে ব্যবহার এবং গুলিচালনার কথাও বলা হয়েছে, যদিও এই তথ্যগুলি এখনও যাচাই করছে প্রশাসন।
জার্মান সংবাদপত্র ‘বিল্ড’-এর খবর অনুযায়ী, সংঘর্ষের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, গুরদোয়ারার নতুন পরিচালন সমিতি গঠন নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
এছাড়াও, গুরদোয়ারার তহবিল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল বলেও জানা গিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রার্থনা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে আচমকাই হামলাকারীরা পেপার স্প্রে ব্যবহার করে এবং পরে গুলি চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনা পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে।”
অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সংঘর্ষের সময় গুরদোয়ারার ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই প্রাণভয়ে বাইরে পালিয়ে যান। তবে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত, সৌভাগ্যবশত কারও প্রাণহানি হয়নি।”
ঘটনার পর আহতদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। অপরাধ দমন শাখার তদন্তকারীরা ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম ও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া খোসার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি ‘ব্ল্যাঙ্ক-ফায়ারিং’ অস্ত্র হতে পারে। ঘটনার তদন্ত চলছে।



















