কাঠমান্ডু, ৪ জুন (আইএএনএস): ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর-এর আমন্ত্রণে নেপালের বিদেশমন্ত্রী Shisir Khanal ৫ থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সরকারি সফরে ভারত আসছেন। বৃহস্পতিবার নেপালের বিদেশ মন্ত্রক এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৭ মার্চ নতুন সরকার গঠনের পর এটাই শিসির খানালের প্রথম সরকারি ভারত সফর। যদিও এর আগে এপ্রিল মাসে মরিশাসে অনুষ্ঠিত নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে তিনি জয়শঙ্করসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, সফরকালে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আইএএনএস-কে জানান, ৬ জুন দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে রেল, সড়ক, বিমান ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সঙ্গে বৈঠকের পর নেপালের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি-র সভাপতি রবি লমিছানে বলেন, দুই দেশ সভ্যতাগত বন্ধন, ডিজিটাল করিডর এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও উন্নয়নের নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে।
নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমাঞ্চলের পোখরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গৌতম বুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর জন্য ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করে আরও সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক বিমানপথের দাবি জানিয়ে আসছে। এই বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া ভারত ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত রাক্সাউল–কাঠমান্ডু রেলওয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ভারতীয় সহযোগিতায় এই রেলপথ নির্মাণের বিষয়েও অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলেও নেপালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি সংক্রান্ত সীমান্ত বিরোধ এই সফরের আলোচ্যসূচিতে নেই।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী নেপাল-ভারত যৌথ কমিশন বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সপ্তম যৌথ কমিশন বৈঠকে ভারত ও নেপাল ১০ বছরে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে পঞ্চেশ্বর বহুমুখী প্রকল্প, পূর্ব-পশ্চিম রেলপথ, জনকপুর-অযোধ্যা রেল সংযোগ, পোখরা ও ভৈরহাওয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় বিমান চলাচল, এবং বাণিজ্য ও ট্রানজিট সংক্রান্ত বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।



















