সংযুক্ত রাষ্ট্র, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): হরমুজ প্রণালী এবং বাব-আল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সমুদ্রপথে অবাধ ও বাধাহীন নৌচলাচল এবং বাণিজ্য দ্রুত পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে এক বিতর্কে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ বলেন, “এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বেসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌচলাচল ও বাণিজ্য যত দ্রুত সম্ভব পুনরুদ্ধার করা জরুরি।”
তিনি হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলাচলকারী জিএফএস গ্যালাক্সি, এমটি আল বাহিয়াহ এবং এমটি মোমবাসা-র উপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, এসব হামলায় কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। একজন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন এখনও নিখোঁজ।
পি. হরিশ বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে নাবিকদের লক্ষ্য করে সহিংসতা এবং নিরাপদ নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টিকারী যে কোনও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারত বরাবরই সরব।
তিনি সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ না করলেও, বাব-আল-মান্দেব প্রণালীতে জাহাজে হামলার প্রসঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের উল্লেখ করেন। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী সৌদি আরব-সংযুক্ত চারটি জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “বাব-আল-মান্দেব প্রণালী এবং দক্ষিণ লোহিত সাগরের নিরাপত্তা রক্ষা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব এবং এটি বৈশ্বিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।” পাশাপাশি তিনি ইয়েমেনের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন।
পি. হরিশ আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি এবং শুধু উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-ভুক্ত দেশগুলি থেকেই ভারতে বছরে ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স আসে। এই সম্পর্ক ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি ভারতীয়ের নিরাপত্তা ও কল্যাণ ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয় বলেও জানান তিনি।



















