কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দলীয় প্রতীক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সামনে টানাপোড়েনের আবহে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রবীণ বিজেপি নেতা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষতি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই দলটির অস্তিত্বই থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “মনে হচ্ছে কেউই দলীয় প্রতীক পায়নি। আমরা চাই না এই দলের পশ্চিমবঙ্গে বা অন্য কোথাও কোনও জায়গা থাকুক। দলটির অস্তিত্বই থাকা উচিত নয়। এই দল বাংলার ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং রাজনীতিকে কলুষিত করেছে।”
প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতিও তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, দলের অনেকের কাছেই তৃণমূল কংগ্রেস মানেই এখনও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন থাকবেন, ততদিন তাঁকে দেখলে মানুষের মনে হবে তৃণমূল কংগ্রেস নামে একটি দল এখনও রয়েছে। তবে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক ও নেতাদের সমর্থন এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের কথাতেই, তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তিনি যতদিন থাকবেন, তাঁকে দেখলে মনে হবে তৃণমূল কংগ্রেস নামে একটি দল ছিল। কিন্তু বিদ্রোহী গোষ্ঠীও রয়েছে, যাদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক রয়েছেন। ফলে দলটি স্পষ্টতই বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।”
এদিনই নয়াদিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর সঙ্গে দলীয় প্রতীক নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন। প্রথমে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বক্তব্য শোনা হয়। পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল গোষ্ঠীর বক্তব্য শোনে কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বিভাজন তৈরি হয়। অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশের বিধায়ক ও নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখেন।
—আইএএনএস



















