আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর: গবেষণার মাধ্যমে ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে রাজ্যের মাটিতেই। কৃষিকে শুধুমাত্র একটি পেশা হিসেবে দেখলে চলবে না; কৃষিই মানবসভ্যতার অন্যতম ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের খাদ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। আজ ত্রিপুরা কলেজ অব এগ্রিকালচারের ২০তম প্রতিষ্ঠা দিবস ও গ্র্যাজুয়েশন ডে ২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন আমরা প্রায়ই বলি, তথ্যপ্রযুক্তি ভবিষ্যৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ, শিল্প ভবিষ্যৎ, মহাকাশ প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ। কিন্তু আজ এই মঞ্চ থেকে আমি বলতে চাই—কৃষিও ভবিষ্যৎ। কৃষি ভবিষ্যতের খাদ্যের ভিত্তি, গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি এবং পরিবেশ ও মানবসভ্যতার ভবিষ্যতের অন্যতম স্তম্ভ।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক মানুষের খাদ্যের অধিকার রয়েছে। তাই কৃষিবিদ্যা অধ্যয়ন শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও জড়িয়ে রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের তুলনায় বর্তমানে ত্রিপুরা কলেজ অব এগ্রিকালচারে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং একাডেমিক পরিসর অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। তাঁর কথায়, সরকারের লক্ষ্য—‘আত্মনির্ভর কৃষক, আত্মনির্ভর গ্রাম, আত্মনির্ভর ত্রিপুরা।’
কৃষকের আয় বাড়াতে শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধি যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করে রতনলাল নাথ বলেন, কৃষকদের বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা, উৎপাদন খরচ কমানো এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষকদের প্রবেশাধিকার তৈরি করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, কৃষির উৎপাদনশীলতার সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য, জল সংরক্ষণ এবং পরিবেশের স্থায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। কৃষি দুর্বল হলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনই কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে এবং পরিবেশের ওপর চাপ বাড়বে।
মন্ত্রী আরও বলেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কৃষিজমির মাটি, জল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আগামী দিনে কৃষির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে জলবায়ু পরিবর্তন। তাই এমন কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে সক্ষম।”
নবীন কৃষিবিদ ও কৃষি পেশাজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ত্রিপুরার কৃষির রূপান্তরে শিক্ষিত তরুণ কৃষি পেশাজীবীরাই নতুন মুখ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁদের জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাই রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে পারে।



















