আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর: বোনের বিয়ের খরচ মেটাতে প্রায় ৩০ বছর আগে জমি কেনার পরও হাতে পাননি জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। দীর্ঘ তিন দশক পর হঠাৎ সেই জমি নিয়ে মামলা হয়েছে জানতে পেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মোহনপুর মহকুমার বামুটিয়া তহশীল কাছারির অন্তর্গত রাঙ্গুটিয়া গ্রামের বেড়িমুড়া পালপাড়া এলাকায়।
অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দা মৃত অবিনাশ দাস ও কর্ণমণি দাস প্রায় ৩০ বছর আগে, ১৯৯৭ সালে, একই এলাকার মৃত অধীর গোস্বামী ও শংকর গোস্বামীদের কাছ থেকে প্রায় এক কানি জমি ক্রয় করেছিলেন। পরিবারের দাবি, তাঁদের বোনের বিয়ের সময় সেই জমি কেনা হয়েছিল এবং জমির মূল্যও পরিশোধ করা হয়। কিন্তু জমি বিক্রির পরও অধীর গোস্বামী ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জমির কাগজপত্র করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে একাধিকবার কাগজপত্র করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও প্রতিবারই তাঁদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অবিনাশ দাস ও কর্ণমণি দাসের পরিবার। এরই মধ্যে প্রয়াত হয়েছেন জমির বিক্রেতা অধীর গোস্বামীও।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে বিষয়টি এভাবেই চলার পর গতকাল হঠাৎ তাঁদের বাড়িতে তহশীল দপ্তরের কর্মীরা আসেন। তখনই তাঁরা জানতে পারেন, শংকর গোস্বামী ওই জমি নিয়ে মামলা করেছেন বলে অভিযোগ।
এদিকে, শংকর গোস্বামীর মুহুরির বিরুদ্ধে তহশীল কর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করারও অভিযোগ তুলেছে অবিনাশ দাস ও কর্ণমণি দাসের পরিবার। যদিও অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবারটি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানায়, তাঁরা প্রায় ৩০ বছর আগে অধীর গোস্বামী ও শংকর গোস্বামীদের কাছ থেকে জমিটি কিনেছিলেন। বোনের বিয়ের প্রয়োজনে জমিটি কেনার পর দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্র করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেও কোনও সুরাহা হয়নি। এখন হঠাৎ করে ওই জমি নিয়ে মামলা হওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ন্যায্য ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে হঠাৎ মামলা হওয়ার ঘটনায় তাঁরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সমস্ত নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে প্রশাসন যেন বিষয়টির সমাধান করে, সেই আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
























