নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): ভারতীয় রেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতির ফলে গত এক দশকে ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৮৮ শতাংশ কমেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে যেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬-তে। চলতি অর্থবর্ষে জুন মাস পর্যন্ত মাত্র দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে বুধবার লোকসভায় জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
লোকসভায় লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, প্রতি ১০ লক্ষ ট্রেন-কিলোমিটারে দুর্ঘটনার হার বা ‘কনসিকোয়েনশিয়াল অ্যাক্সিডেন্ট ইনডেক্স’ ২০১৪-১৫ সালের ০.১১ থেকে ২০২৫-২৬ সালে কমে ০.০১-এ নেমে এসেছে, যা প্রায় ৯১ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
রেল মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রেন পরিচালনার নিরাপত্তা বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এই খাতে বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে ব্যয় ছিল ৩৯,২০০ কোটি টাকা, যা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বেড়ে হয়েছে ১,২০,৩৮৯ কোটি টাকা।
রেলমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থাসহ আধুনিক বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা ৬,৬৭১টি স্টেশনে চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সমস্ত স্টেশনে সম্পূর্ণ ট্র্যাক সার্কিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে ১০,৩৯৫টি লেভেল ক্রসিং গেটে ইন্টারলকিং ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সমস্ত লোকোমোটিভে ভিজিল্যান্স কন্ট্রোল ডিভাইস বসানো হয়েছে এবং কুয়াশাপ্রবণ এলাকায় কর্মরত লোকো পাইলটদের জন্য জিপিএস-ভিত্তিক ফগ সেফটি ডিভাইস সরবরাহ করা হয়েছে।
কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে গেলে চালকদের আগাম সিগন্যাল সম্পর্কে সতর্ক করতে বিদ্যুতায়িত রেলপথে সিগন্যালের আগে ওভারহেড ইকুইপমেন্ট (ওএইচই) মাস্টে রেট্রো-রিফ্লেকটিভ সিগমা বোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া রেলের লাইনে ত্রুটি শনাক্ত করতে আল্ট্রাসোনিক ফ্ল’ ডিটেকশন পরীক্ষা, ত্রুটিপূর্ণ রেল দ্রুত অপসারণ, দীর্ঘ রেললাইন বসানো, অ্যালুমিনো-থার্মিক ওয়েল্ডিংয়ের ব্যবহার কমিয়ে উন্নত ওয়েল্ডিং প্রযুক্তি গ্রহণের মতো পদক্ষেপও নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রেলকর্মীদের নিরাপদ কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘কবচ’ ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা নির্ধারিত গতিসীমার মধ্যে ট্রেন পরিচালনায় লোকো পাইলটকে সহায়তা করে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়।



















