ঢাকা, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলার আবহে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় এক হিন্দু পরিবারের উপর নৃশংস আক্রমণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির অভিযোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বারবার হামলার শিকার হওয়া হিন্দু পরিবারগুলিকে সুরক্ষা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দাবি, জমি-সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের রায় অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও গোপাল কৃষ্ণ দাস এবং তাঁর পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, হামলাকারীরা শুধু জমি দখলের উদ্দেশ্যে আসেনি, বরং দিনের আলোয় বাড়িতে ঢুকে গোপাল কৃষ্ণ দাস ও তাঁর স্ত্রী আঁখি রানি দাসকে মারধর করে। এছাড়া তাঁদের দুই কন্যার উপরও শারীরিক নির্যাতন ও নিগ্রহ চালানো হয় এবং পরিবারের প্রবীণ সদস্যকে জলে ডুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।
দলটির বক্তব্য, গোপাল কৃষ্ণ দাসের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
আওয়ামী লীগ সমালোচকদের বক্তব্য তুলে ধরে জানায়, আদালতের অনুকূল রায় পাওয়ার পরও যদি কোনও পরিবার নিজেদের পৈতৃক ভিটেতে নিরাপদে বসবাস করতে না পারে এবং প্রকাশ্য দিবালোকে মহিলাদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে, তবে তা আইনের শাসনের কার্যকারিতা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
দলটি আরও অভিযোগ করে, বাংলাদেশে যখনই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী বা তাদের সহযোগী শক্তিগুলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে, তখনই ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বারবার নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েছেন।
আওয়ামী লীগের দাবি, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের উপর ব্যাপক হামলার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে রয়েছে। তাদের মতে, বাংলাদেশের প্রতিটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ই সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং নারী ও প্রবীণরাও রেহাই পাননি।
এদিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর বাড়তে থাকা সহিংসতার প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সোমবার জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অন্তত ২৫৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যাতে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনাগুলির মধ্যে ৪০টি ঘটনায় ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নারী নির্যাতনের পাঁচটি ঘটনা, যার মধ্যে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, এবং অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের ১০টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের ৪২টি ঘটনা, উপাসনালয়ে হামলা, মূর্তি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৬২টি ঘটনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি দখল বা দখলের চেষ্টার ১৫টি ঘটনা এবং বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৪৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এছাড়া ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার ও হয়রানির নয়টি ঘটনা, বাড়ি, জমি ও ব্যবসায়িক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের ২১টি ঘটনা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অন্যান্য ছয়টি ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



















