নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুন: রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি, স্মার্ট মিটার প্রকল্প এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলে ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে তীব্র আক্রমণ শোনাল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। শুক্রবার দলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতি জারি করে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।
বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি ও ‘স্মার্ট মিটার’ জালিয়াতির অভিযোগ
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাজ্যবাসী যখন তীব্র দাহদাহে বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ চুপিসারে বিদ্যুৎ মন্ত্রী আবারও বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি করেছেন, যার কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা মেলেনি। বিবৃতিতে বলা হয়, গত মাস থেকে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ফিক্সড চার্জ ও ফুয়েল চার্জ বাবদ ৭০-৭৫ টাকা থেকে শুরু করে ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি চাপানো হয়েছে, যা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো।
পাশাপাশি, বিদ্যুৎ নিগমের স্থায়ী আমানতের প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা লুট এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থাকে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা লুটে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি: বিদ্যুৎ নিগমকে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণগ্রস্ত করে তোলার পরও বিগত ৮ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুতের মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। ‘স্মার্ট মিটার’ প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের পকেট কাটার আলিয়াতি চলছে। তীব্র গরমের মধ্যেও রাজ্যের সর্বত্র অঘোষিত লোডশেডিং চলছে। খোদ আগরতলা শহরে গত ৭ দিনের মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে এবং গত ১০ দিনে ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই দিনে ৭২ বার বিদ্যুৎ ড্রপের ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রদেশ কংগ্রেস অবিলম্বে বর্ধিত মাশুল ও বিভিন্ন চার্জ প্রত্যাহার, স্মার্ট মিটার প্রকল্প বাতিল এবং বিদ্যুৎ নিগমের সমস্ত দুর্নীতির যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্মার্ট সিটি প্রকল্পের নামে তথাকথিত উন্নয়নমূলক কাজকে ‘কামধেনু’তে পরিণত করে শত শত কোটি টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে। ফলস্বরূপ আগরতলার নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। সম্প্রতি কাটাখাল সংস্কারের কাজে অবৈজ্ঞানিক ও অপরিণত পদক্ষেপের ফলে বাঁধের বিপন্নতা তৈরি হয়েছে, যা ভারী বর্ষণ হলে গোটা আগরতলা শহরকে ভাসিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্তর-পূর্ব কাউন্সিল সভা ও রাজ্য সফর প্রসঙ্গে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে। মণিপুরে গত প্রায় ৩ বছর ধরে চলা অশান্তি দমনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতা নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে কংগ্রেসের জিজ্ঞাসা—ত্রিপুরা কেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক, বেআইনি নেশাদ্রব্য ও মানব পাচারের করিডোর হয়ে উঠছে? এতে শাসকদলের প্রভাবশালী এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একাংশের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।
গত মে মাসের বেশ কিছু ঘটনার খতিয়ান তুলে ধরে রাজ্যে আইনের শাসন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। বিবৃতিতে উল্লিখিত কিছু ঘটনা: অমরপুরের বিডিও, ভারতচন্দ্র নগরদের বিডিও এবং তাদের অফিসে কর্মরত অবস্থায় শাসকদলের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও মাতব্বরদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। কমলপুরে পুলিশের এসডিপিও আক্রান্ত হওয়া।কলমচৌড়া থানার ওসি-কে শাসকদলীয় বিধায়ক দ্বারা আক্রান্ত ও অপমানিত হতে হওয়া। আমতলী থানার ওসি দাগী অপরাধীকে ধরে আনার পথে বিজেপি মহিলা নেতৃত্বের দ্বারা কামড় খেয়ে রক্তাক্ত হওয়া এবং অপরাধীকে থানা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া। এমনকি গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী ক্ষেত্রে (নাগেরজলা মোটোরস্ট্যান্ড) শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর রক্তাক্ত সংঘর্ষের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজ্যবাসী ধারণা করছেন যে বর্তমান সরকার সমাজদ্রোহী ও লুটেরাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে আছে।” রাজ্যবাসীর স্বার্থে এই সমস্ত জনবিরোধী নীতি ও আইনহীনতার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার এবং মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানিয়েছে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস।























