News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • অসমে বন্যা মোকাবিলায় ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ কৌশল, সব দফতরকে মাঠে নামাল সরকার: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
Image

অসমে বন্যা মোকাবিলায় ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ কৌশল, সব দফতরকে মাঠে নামাল সরকার: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

গুয়াহাটি, ২০ জুলাই (আইএএনএস): প্রবল বর্ষণে আপার অসমের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাজ্য সরকার ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ (সমস্ত সরকারি দফতরের সমন্বিত) কৌশল গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব সরকারি দফতরকে সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং শীর্ষ আধিকারিকদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থেকে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, টানা ভারী বৃষ্টির ফলে জাজি, দিখৌ এবং দিচাং নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এর জেরে যোরহাট, শিবসাগর, চরাইদেও, ডিব্রুগড়-সহ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তিনি জানান, জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন সরকারি দফতরের সমন্বয়ে প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে বাঁধ মজবুত করতে বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্বল অংশে অতিরিক্ত বালির বস্তা ফেলা, জরুরি মেরামতির কাজ এবং নিয়ন্ত্রিত পাইপিং অপারেশনের মাধ্যমে বাঁধ ভেঙে যাওয়া রোধের চেষ্টা চলছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায়।”

ইতিমধ্যেই বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে মন্ত্রী এবং শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছে। তাঁরা উদ্ধারকাজ তদারকি, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণের কাজ করছেন।

গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে আপার অসমের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাইদেও জেলা, যেখানে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এরপরেই রয়েছে ধেমাজি, যেখানে ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া ডিব্রুগড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। যোরহাট, শিবসাগর, তিনসুকিয়া এবং উদালগুড়ির বিভিন্ন এলাকাতেও বন্যার জল ঢুকে পড়েছে।

Releated Posts

এফসিআরএ সংশোধনী নিয়ে মেঘালয়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদ, চার্চ-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিয়ে উদ্বেগ

 শিলং, ১০ আগস্ট  : ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন  সংশোধনীর প্রতিবাদে…

ByByNews Desk Aug 10, 2026

স্বাধীনতার চেতনায় ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ বাইক র‍্যালি, ইম্ফলে পতাকা উড়িয়ে সূচনা মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর

ইম্ফল, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): দেশজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের অংশ হিসেবে দেশাত্মবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সোমবার ইম্ফল পূর্ব…

ByByNews Desk Aug 10, 2026

মণিপুরে সাত জঙ্গি গ্রেফতার, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

ইম্ফল, ৯ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরে পৃথক একাধিক যৌথ অভিযানে সাত জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায়…

ByByNews Desk Aug 9, 2026

মণিপুরে শান্তি ফেরাতে বড় পদক্ষেপ, অবাধ যাতায়াতের জন্য জাতীয় সড়ক খুলে দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী ও আদিবাসী নেতাদের

ইম্ফল, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী…

ByByNews Desk Aug 8, 2026
Scroll to Top