কোহিমা, ২০ জুলাই (আইএএনএস) : নাগাল্যান্ডের মন জেলায় টানা বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০-এ পৌঁছেছে। সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা দফতরের সূত্রে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বাকি পাঁচজনের দেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মৃতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন।
সোমবার নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে মন জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ডিফেন্স কলোনি এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন, স্থানীয় নেতৃত্ব ও ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিজিত ও তুলি এলাকার আকাশপথে সমীক্ষাও করেছেন। তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), জেলা এক্সিকিউটিভ ফোর্স (ডিইএফ), জেলা প্রশাসন এবং উদ্ধারকাজে যুক্ত সকলের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
রিও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নাগাল্যান্ডেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভূমিধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে বিল্ডিং আইন এবং নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর তিনি জোর দেন।
তাৎক্ষণিক ত্রাণ হিসেবে কোনিয়াক ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠনগুলিকে জরুরি ব্যবহারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
কোনিয়াক বিধায়কদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ডব্লিউ. চিংগাং কোনিয়াকও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। কোনিয়াক ইউনিয়নের তদন্তকারী দল মুখ্যমন্ত্রীর সামনে একটি ভিডিও উপস্থাপন করে, যেখানে মন শহরে ভূমিধসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিজিত, নাগানিমোরা, সোনারি, ওয়াকচিং এবং আবোই-সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মন শহরের সঙ্গে রাজ্যের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মন জেলার ডেপুটি কমিশনার ওয়েনিয়ে কোনিয়াক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান। কোনিয়াক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়ামাও কোনিয়াকও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত সহায়তার ঘোষণা এবং মুখ্যমন্ত্রীর সফরের প্রশংসা করেন।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, ভূমিধসের ফলে ডিফেন্স কলোনি এলাকায় প্রায় ১৫টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু আবাসিক ভবন ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রবিবার থেকে অসম রাইফেলস, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), নাগাল্যান্ড পুলিশ, এসডিআরএফ, সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা টানা বৃষ্টি, অস্থির ভূমি এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা সত্ত্বেও উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও মৃতদের প্রত্যেকের নিকটাত্মীয়কে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং আহতদের প্রত্যেককে ৭৪ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে খাদ্য, অস্থায়ী আশ্রয়, প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ সব ধরনের সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
























