নয়াদিল্লি, ৫ জুন (আইএএনএস): দক্ষিণ ভারতে উগ্রপন্থী কার্যকলাপ ও চরমপন্থী মতাদর্শের বিস্তার ঘটাতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও কেরলকে লক্ষ্য করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, উত্তর ভারতে আইএসআই সাধারণত সরাসরি জঙ্গি হামলা বা নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলেও দক্ষিণ ভারতে তাদের কৌশল ভিন্ন। এখানে মূল লক্ষ্য থাকে চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো, যুব সমাজকে প্রভাবিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
এই প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কার বাত্তিকালোয়া জেলা ভারতীয় গোয়েন্দাদের বিশেষ নজরে রয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, ওই জেলায় ওয়াহাবি মতাদর্শের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর মাধ্যমে তা বিস্তার লাভ করছে।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য, বাত্তিকালোয়া শুধু শ্রীলঙ্কার জন্য নয়, দক্ষিণ ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ। তাঁর মতে, এই অঞ্চলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে বিদেশি ধর্মীয় সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে, যা উগ্রপন্থী কার্যকলাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০০০ সালের পর থেকে কেরলে ওয়াহাবি মতাদর্শের প্রসার লক্ষ করা যায়। যদিও পরবর্তীতে নজরদারি বাড়ায় সেই কার্যকলাপ কিছুটা কমে আসে। বর্তমানে বাত্তিকালোয়াকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুতে একই ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১৪ সালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) চেন্নাইয়ে আইএসআই-ঘনিষ্ঠ একটি গুপ্তচর চক্রের পর্দাফাঁস করেছিল। তদন্তে উঠে এসেছিল যে মালদ্বীপের কিছু যুবককে চরমপন্থায় উদ্বুদ্ধ করে চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর বিদেশি কূটনৈতিক দপ্তরে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলির আরও দাবি, শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন এলটিটিই সদস্যদের মধ্যেও যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে আইএসআই। অতীতের ঘটনাগুলিকে সামনে এনে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ উসকে দিয়ে সংগঠনে টানার প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের মতে, বাত্তিকালোয়া জেলার সঙ্গে ২০১৯ সালের শ্রীলঙ্কার ইস্টার হামলার মূলচক্রী জাহরান হাশিমেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি এই অঞ্চল থেকেই উগ্রপন্থী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন এবং একাধিকবার তামিলনাড়ু সফর করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, কোয়েম্বাটুর ও মাঙ্গালুরু বিস্ফোরণ মামলার অভিযুক্তদের উপরও তাঁর প্রভাব ছিল।
এছাড়া পাকিস্তানভিত্তিক ‘রাবিতা ট্রাস্ট’-এর কার্যকলাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গোয়েন্দা মহল। তাদের দাবি, এই সংগঠনের মাধ্যমে চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে অতীতে সংগঠনটির বিরুদ্ধে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ ভারতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আইএসআই বর্তমানে দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রথম ধাপে মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তার এবং পরবর্তী পর্যায়ে সংগঠিত নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই কারণেই শ্রীলঙ্কার বাত্তিকালোয়া জেলার ওপর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিশেষ নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
























