কাঠমান্ডু, ২১ জুলাই (আইএএনএস): নেপালের পূর্বাঞ্চলের বিরাটনগর ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি)-তে প্রথমবারের মতো কলকাতা বন্দর থেকে সরাসরি কনটেনারবাহী পণ্যবাহী ট্রেন পৌঁছেছে। তৃতীয় দেশ থেকে আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল নিয়ে সোমবার ট্রেনটি বিরাটনগর আইসিপিতে পৌঁছায়।
গত বছর নেপাল-ভারত ট্রানজিট চুক্তির প্রোটোকলে সংশোধন করে বিরাটনগর আইসিপিতে বাল্ক ও কনটেনার—উভয় ধরনের রেলপথে পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়। ভারতীয় সহযোগিতায় নির্মিত এই আইসিপিতে এটাই প্রথম সরাসরি কনটেনারবাহী মালগাড়ির আগমন।
বিরাটনগর কাস্টমস অফিসের প্রধান কাস্টমস আধিকারিক উমেশ শ্রেষ্ঠ জানান, স্বস্তিক অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ক্যানোলা শস্যবাহী ৪০টি কনটেনার নিয়ে ট্রেনটি আইসিপিতে পৌঁছেছে। এই উপলক্ষে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা বন্দর থেকে সরাসরি রেল পরিষেবার সূচনা উদ্যাপন করা হবে।
কনটেনার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (কনকর)-পরিচালিত মালগাড়িতে সব কনটেনারেই ইলেকট্রনিক কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেম (ইসিটিএস) সংযুক্ত ছিল। ১৭ জুলাই কলকাতা বন্দর থেকে ৪০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কনটেনার নিয়ে ট্রেনটি বিরাটনগরের কাস্টমস ইয়ার্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
কলকাতায় নেপালের কনসাল জেনারেল ঝক্কা প্রসাদ আচার্য, কলকাতা কাস্টমস, কলকাতা বন্দর এবং কনকরের আধিকারিকরা যৌথভাবে এই পরিষেবার উদ্বোধন করেন।
উমেশ শ্রেষ্ঠ জানান, ভবিষ্যতে বিরাটনগর আইসিপিতে নিয়মিত কনটেনারবাহী মালগাড়ি চলাচল করবে। পাশাপাশি, নেপালের আমদানিকারকেরা সার ও স্পঞ্জ আয়রনও রেলপথে পরিবহনের জন্য কনকরের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে নেপাল ও ভারত ট্রানজিট চুক্তির প্রোটোকলে সংশোধন এনে একটি ‘লেটার অব এক্সচেঞ্জ’-এ স্বাক্ষর করে। এর ফলে তৃতীয় দেশ থেকে আসা বাল্ক ও কনটেনারবাহী পণ্য রেলপথে বিরাটনগরে আনার পথ প্রশস্ত হয়। যদিও ভারতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে কয়েক মাস সময় লেগেছে।
এর আগে ট্রানজিট চুক্তির আওতায় শুধুমাত্র কয়লা, ক্লিঙ্কার, সিমেন্ট এবং সার—এই চার ধরনের বাল্ক পণ্য রেলপথে বিরাটনগর আইসিপিতে আনার অনুমতি ছিল। সংশোধিত প্রোটোকলে ভৈরহাওয়া কাস্টমস পয়েন্টেও সব ধরনের তৃতীয় দেশের পণ্য রেলপথে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এতদিন ভারতের সমুদ্রবন্দর দিয়ে আসা কনটেনারবাহী আমদানি পণ্যের জন্য রেল-সংযুক্ত একমাত্র কাস্টমস পয়েন্ট ছিল রক্সৌলের কাছে বীরগঞ্জ আইসিপি। বিরাটনগরে এই নতুন পরিষেবা চালু হওয়ায় নেপালের আমদানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাস্টমস আধিকারিকদের মতে, এই রেল পরিষেবার ফলে পরিবহণ ও লজিস্টিক ব্যয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বন্দর সংক্রান্ত ডিমারেজ, কনটেনার আটকানোর অতিরিক্ত খরচ এবং সড়কপথে পরিবহণ ব্যয় কমবে। এর ফলে নেপালের শিল্পক্ষেত্রের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও সহজ হবে।
– আইএএনএস



















